
সোনাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
চারিদিকে সমুদ্রে ঘেরা, মাঝখানে বিচ্ছিন্ন ছোট একটি দ্বীপ কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া। এখানে নোনা জলের গর্জনে ঘুম ভাঙে মানুষের। সমুদ্রের ত্রাসের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে একটু একটু করে স্বপ্ন বুনে দ্বীপটির লোকজন। আর সেই স্বপ্ন যেন শুরুতেই থমকে যায়। কারণ, সন্তানদের বেশিদূর পড়ালেখা করাতে পারেন না তারা। সোনাদিয়ায় শিক্ষার আলো পৌঁছালেও পঞ্চম শ্রেণিতেই পাঠ চুকিয়ে ঢেউয়ের ভাঁজে স্বপ্ন খুঁজতে থাকে সোনাদিয়ার শিশুরা।

আরও পড়ুন : সুখবর, উপবৃত্তি পাচ্ছেন ৮০ হাজার শিক্ষার্থী
সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজারের নৌঘাট থেকে সোনাদিয়া দ্বীপে যেতে হয় বিশাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে। আর যাতায়াতের জন্য নৌযান তেমন একটা নাই এবং ব্যয় সাধ্য। তাই চাইলেই যে কেউ সোনাদিয়া থেকে অন্য কোথাও যেতে পাড়বে না। সোনাদিয়ায় একটি স্কুলই আছে। আর সেটিতে পঞ্চম শেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করানো। হয়। যেসব শিক্ষকরা পাঠদান করান তারাও আসেন দূর-দূরান্ত থেকে। স্কুলটিতে শিক্ষক আছে মোট ছয় জন। তাই প্রতিদিন ক্লাসও হয়না স্কুলটিতে।

স্কুলটির আরো শিক্ষার্থীরা জনকণ্ঠকে জানায়, তারা তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠদান করে। আবার কেউ কেউ স্কুল পাস করেছে। যারা এখন পড়াশোনা করছে তারা তাদের অভিজ্ঞতা থেকেই জানে পঞ্চম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা করতে পারবে না। কিন্তু তাদের আরও পড়ালেখা করা তীব্র আকাঙ্খা রয়েছে।

সোনাদিয়ার বাসিন্দারা জনকণ্ঠকে জানান, ছেলে মেয়েদের আরো পড়াশোনা করানোর ইচ্ছা রয়েছে তাদের। কিন্তু স্কুল না থাকায় পড়াশোনা করাতে পারছেন না। দূরে গিয়ে পড়াশোনা করারও নেই কোনো সহজ মাধ্যম। তাই ইচ্ছা থাকলেও সন্তানদে পড়াশোনা করাতে পারছেন না অবিভাবকরা। এছাড়া, শিক্ষকসংকটের কারণে নিয়মিত সব ক্লাসের পাঠদান হয় না। এমনকি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কেউ কেউ নানান কাজেই বাইরে থাকায় প্রতিদিন আসতে পারেন না। সোনাদিয়ায় একটি হাই স্কুলের ব্যবস্থা করা অথবা উপজেলায় গিয়ে পড়াশোনা করার জন্য যোগাযোগের সহজ ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি সোনাদিয়ার বাসিন্দাদের।
এ বিষয়ে সোনাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মোক্তার আহমদ বলেন, কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কোনো ঘাটতি নেই। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখানে হাই স্কুল না থাকায় শিক্ষার্থীরা আর বেশিদূর পড়তে পারছে না। যার সাধ্য আছে সে তার সন্তানদের উপজেলায় রেখে পড়ালেখা করায়।

তিনি বলেন,‘সেনাদিয়া হলো পিছিয়ে পড়া একটি এলাকা। ওখানকার অধিকাংশ মানুষ জেলে। তাদের শিক্ষার গুরুত্বের বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টাও করে যাচ্ছি। ওই এলাকা থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা যে দূরে গিয়ে পড়বে সেই স্বচ্ছলতা নেই অভিভাবকদের। অনেক শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণি পাস করেই পরিবারের ভরণ-পোষণের কাজে লেগে যায়।’

এম হাসান