
দেশে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে চালের
দেশে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে চালের। প্রতি মাসেই দফায় দফায় হয়েছে আমদানি। এছাড়াও ভোজ্যতেলেরও এলসি খোলা হয়েছে গতবারের তুলনায় অনেক বেশি। তারপরও চাল ও তেলের বাজারে অস্থিরতা লেগেই আছে। বিশেষ করে দেশে চালের দাম কয়েক মাস ধরেই বাড়তি, যা ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অবশ্য খাদ্য উপদেষ্টা বলছেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত আছে। ফলে খাদ্য নিয়ে দেশে কোনো শঙ্কা নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পণ্য ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চালের আমদানি। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৮ কোটি ৬১ লাখ ডলার সমমূল্যের চাল আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২০৫ শতাং বেশি। তবে গমের আমদানি ৭ শতাংশ কমে ১০৬ কোটি ডলারে নেমেছে। শতাংশ বিবেচনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ডালের। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার সমমূল্যের ডাল আমদানি হয়েছে। আগের একই সময়ের চেয়ে যা ১২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।
এদিকে চালের আমদানি সবচেয়ে বেশি হলেও দামে তেমন প্রভাব নেই। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অর্থ বছরের শেষ ছয় মাসে প্রতি কেজি চালের দাম প্রায় দশ টাকা বেড়েছে। চিকন চালের দাম এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ।
সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে সরু চালের দর ১২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে এখন প্রতি কেজি ৭২ থেকে ৮৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চালে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা। আর মোটা চালে ৩ শতাংশের মতো বেড়ে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
তবে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখন মোটা চাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা ও চিকন চাল সর্বনি¤œ ৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত দেশে চার লাখ ২২ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে সরকারি পর্যায়ে। চার দেশ থেকে আমদানি চুক্তি করা হয়েছে ৯ লাখ টন। এ ছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে যেখানে গত অর্থবছরে চাল আমদানির পরিমাণ শূন্য ছিল, সেখানে এই অর্থবছরের বিগত নয় মাসে দুই লাখ ৮৬ হাজার টন চাল এসেছে। এ ছাড়াও সরকারের গুদামে এখন মজুত রয়েছে ৯ লাখ ২৪ হাজার টন চাল।
এ প্রসঙ্গে খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানিয়েছেন, সরকারের কাছে যথেষ্ট খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। তাই খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই।
শনিবার হাওড়ের বোরো ধানের ফলন সরেজমিনে পরিদর্শকালে তিনি বলেন, ‘গত বন্যায় আমন ধানের যে ক্ষতি হয়েছে, সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার খাদ্যশস্য আমদানি করছে। আর এবার হাওড়সহ সারাদেশে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে খাদ্য উদ্বৃত্ত হবে দেশ। আর কৃষক যেন ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়, তা নিশ্চিত করতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’