
বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে
ঈদকে ঘিরে এবার রেকর্ড পরিমাণ রেমিটেন্স আসায় বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। কোরবানি ঈদ সামনে রেখে আগামী আড়াই মাসেও রেকর্ড রেমিটেন্স দেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রচুর রেমিটেন্স, রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকির কারণে দেশে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ফিরেছে স্থিতিশীলতা।
ব্যাংকগুলোর কাছে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বেড়েছে, ব্যাংকগুলোর কাছে বৈদেশিক মুদ্রার নেট ওপেন পজিশনে (এনওপি) ভালো অবস্থানে আছে। বৈদেশিক মুদ্রার আয় ও দায়ের পার্থক্যই হলো নেট ওপেন পজিশন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে-গত ২০ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর এনওপি ৫৫০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি মাসের শুরুতে ছিল মাত্র ১৫০ মিলিয়ন ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে এনওপি ২৫০ মিলিয়ন থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করেছে। ব্যাংকাররা বলছেন, এনওপি বেড়ে যাওয়ার পেছনে ডলার প্রবাহ বেড়ে যাওয়াই মূলত কারণ। ফলে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরেছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রেমিটেন্স আসার পাশাপাশি রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় দেশের রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় আছে। যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মির্জা ইলিয়াছ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে ডলার বেশি আসায় সম্প্রতি বিদেশী মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল হয়েছে।
রেমিটেন্স বেশি আসায় ডলারের প্রাপ্যতা বেড়েছে। ২০২৪ সালে দেশে এসেছে রেকর্ড ২৭ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স। ঈদ ঘিরে ইতোমধ্যে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিটেন্স দেশে এসেছে। এটি হবে সর্বকালের সর্বোচ্চ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে-গত সেপ্টেম্বরে রেমিটেন্স আসা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮০ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে দুই দশমিক চার বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
অক্টোবরে রেমিটেন্স এসেছিল দুই দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার, নভেম্বরে দুই দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার, ডিসেম্বরে দুই দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার, এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুই দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার ও ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল দুই দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।
যমুনা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী মির্জা ইলিয়াছ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, হুন্ডি ও হাওলার পাশাপাশি পাচার কমে গেছে। এটি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স আসাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তার মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারিতে কারসাজি কমেছে। এটি মুদ্রাবাজারকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করেছে।