ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

প্রতিনিধি দল ঢাকায়, আজ অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক

আইএমএফ ঋণের কিস্তি জুনে পাওয়া যাবে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:৩৩, ৫ এপ্রিল ২০২৫

আইএমএফ ঋণের কিস্তি জুনে পাওয়া যাবে

ঢাকায় এসেছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল

জুনের কিস্তি নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার ঢাকায় এসেছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। আজ রবিবার সকালে প্রতিনিধি দলটি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করবে বলে জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পালনের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আইএমএফের প্রতিনিধি দলটি ঢাকা সফর আসছেন।

দলটি ৬ এপ্রিল থেকে টানা দুই সপ্তাহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে। এ সফরে আইএমএফের দলটির সঙ্গে অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে ১৭ এপ্রিল প্রেস ব্রিফিং করবে সফররত আইএমএফের দল।

এদিকে, আগামী জুনমাসে ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির টাকা এক সঙ্গে পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা। সম্প্রতি তিনি এক বৈঠক শেষে জানিয়েছেন, আইএমএফ ঋণের কিস্তি ছাড়ের আগে কয়েকটি শর্ত বাস্তবায়নের কথা বলেছে, যার মধ্যে দু’টি এখনো পূরণ করা হয়নি। তিনি বলেন, তারা এখনই সেগুলো বাস্তবায়ন করতে বলছে, আমরা বলছি আমাদের সময় লাগবে। আর আমরাই দু’টি কিস্তি একসঙ্গে জুনে চেয়েছি, যাতে একটা ভালো পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায়।

অর্থবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে পাওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ শর্ত পূরণ না করায় আইএমএফ ওই কিস্তি দেয়নি। আগামী জুনে সংস্থাটির বোর্ড সভায় বাংলাদেশের ঋণ ছাড়ের বিষয়টি উঠতে পারে। তবে তার আগে সরকারকে একক ভ্যাট রেট কার্যকর করা এবং বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।

আগামী জুনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার মাধ্যমে সরকার একক ভ্যাট রেট কার্যকরের পরিকল্পনা করছে। তবে জুনের মধ্যে বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জুন থেকে এক্সচেঞ্জ রেট পুরোপুরি বাজারভিত্তিক হবে, এটা বলা যাবে না। 
উল্লেখ্য, আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তির আওতায় আগামী জুন মাসে দুটি কিস্তি পাওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু এর আগেই সংস্থাটির উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল তাদের ঋণের শর্তগুলো পর্যালোচনা করতে আজ ঢাকায় আসছে আইএমএফের শর্তের অংশ হিসেবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও এখনও স্বস্তির জায়গায় পৌঁছায়নি। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে তা আবার মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে। তাই সরকারকে হিসাব-নিকাশ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং আইএমএফেরও বাংলাদেশের বাস্তবতা বোঝা উচিত। 
উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে ঋণ কর্মসূচি বজায় রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এদিকে, আইএমএফের সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংস্থাটি রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও বাংলাদেশের ক্রমাগত নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত মোকাবিলায় অন্যান্য উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছে।

আইএমএফ মিশনের সফরের সময় গৃহীত কর সংস্কারের বিষয়ে একমত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। আপাতত অর্থ মন্ত্রণালয় পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনা করছে। এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি।

×