ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

কাঁচাবাজারে ছুটির আমেজ, দোকানপাট এখনো খোলেনি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:১২, ৩ এপ্রিল ২০২৫

কাঁচাবাজারে ছুটির আমেজ, দোকানপাট এখনো খোলেনি

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা রাজধানীর কাঁচাবাজার

ঈদের চতুর্থ দিনেও রাজধানী ঢাকার নিত্যপণ্যের বাজারে সব দোকানপাট খোলেনি। বাজারে বাজারে ছুটির আমেজ বিরাজ করছে। এমনকি কাঁচাবাজারগুলোতে হাতেগোনা দুই-একজন সবজি বিক্রেতাকে দেখা গেছে। বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ ও পণ্যের সরবরাহও তুলনামূলক কম রয়েছে বাজারগুলোতে। আগামী রবিবার থেকে সরকারি অফিস-আদালত খুলে যাচ্ছে। এবার অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে বন্ধ ঘোষণা করেছে। নাড়ির টানে যারা গ্রামের বাড়িতে ছুটে গিয়েছেন আশা করা হচ্ছে, আগামী শনিবারের মধ্যে সবাই ঢাকা ফিরবেন। ফলে রবিবার থেকে বাজারগুলোতে স্বাভাবিক কেনাকাটা হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, ছুটির কারণে অলিগলিতে নেই ভ্রাম্যমাণ সবজি বিক্রেতা। হাতেগোনা কিছু দোকান খুললেও সেখানে মাছ-সবজির পরিমাণ দেখা গেল কম। যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া ও কাজলার খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটি শেষ না হওয়ায় বাজারে এমন চিত্র। খুচরা বিক্রেতারা ঢাকায় না ফেরায় সবজি আনছেন না পাইকাররা। ফলে নতুন করে অল্প কিছু মাছ-সবজি যা বাজারে আসছে, তার সঙ্গে আগের সবজি মিলিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে। দামও যাচ্ছে ঈদের আগের বাজারদরের মতোই। ঈদের ছুটির সময়টাতে সবজির চাহিদা একেবারে কমে আসার কথা বলছেন যাত্রাবাড়ী আড়তের সবজি বিক্রেতা নিয়ামুল হোসেন। ঈদের এক সপ্তাহ ‘বেচাকেনা হয় না’ বলেও মন্তব্য করলেন তিনি। তিনি বলেন, ঢাকার মানুষ তো বাড়িতে। ঈদের সময়ে সবাই তো দাওয়াতে পোলাও-গোশত খায়। হালকা কিছু সবজি লাগে। অসুস্থ, বয়স্ক ও ছোডো বাচ্চা আছে, তারাই সবজি খায়।
এবারের রোজার ঈদ ঘিরে টানা ৯ দিনের ছুটি শেষে আগামী রবিবার খুলবে সবধরনের অফিস। চাকরিজীবীদের পাশাপাশি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ লম্বা ছুটি ঘিরে গ্রামের স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করছেন। খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা ছুটি কাটিয়ে ফিরলেই আড়তে সবজির সরবরাহ বাড়বে বলে মনে করেন আরেক আড়তদার সালাম শিকদার। তিনি বলেন, পাইকারদের তারা (খুচরা বিক্রেতারা) ফোন দিয়ে বলে কবে মাল (সবজি) নিতে আসবে। কেবল তো দুয়েকজন আসছে। বাকিরা আসব আগামী সপ্তাহে, তারা ফিরলেই আমদানি (গ্রাম থেকে সবজি আনা) বাড়ব। তারা নিতে চাইলে সবজি আনা যাবে। যাত্রাবাড়ীর পাইকারি বিক্রেতা মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্সের মাহবুবুর রহমান বাদল বলেন, চাহিদা তো নাই। ঈদের সময়ে মেহমানদের প্লেটে সবজি দেয় নামমাত্র। গোশত, মাছ ও সেমাই বেশি। আর ঢাকায় তো মানুষ নাই। তারা ফিরলে ভ্যানওয়ালারা সবজি বিক্রি শুরু করবে।
ঢাকায় যারা ঈদ করেছে, বাড়ি যায় নাই- সেই ভ্যানওয়ালারা আজ (বুধবার) থেকে সবজি নেওয়া শুরু করেছে অল্প অল্প করে। বাজার আরও এক সপ্তাহ ঠান্ডা (বিক্রি কম) যাবে। যাত্রাবাড়ী আড়তে আশপাশের এলাকা ছাড়াও ৩০ কিলোমিটার দূরের নারায়ণগঞ্জের মদনপুর থেকেও খুচরা বিক্রেতারা আসেন সবজি কিনতে। মাহবুবুর রহমান বলেন, খুচরা বিক্রেতাদের বেশিরভাগ না আসা পর্যন্ত কোনো পাইকার ঢাকায় সবজির বড় চালান আনবে না। কারণ পচনশীল তো, বিক্রি না হলে পচে যাবে। আড়ত ছাড়াও যাত্রাবাড়ী খুচরা বাজার, শনিরআখড়া ও কাজলা বাজারে বুধবার পটলের কেজি ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০/৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, টমেটো ২০ টাকা, বিভিন্ন আকারের লাউ ৫০/৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। আলুর কেজি ২৫ টাকা ও পেঁয়াজ ৪৫ টাকা ও মরিচ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। ঈদের আগের বাজারের তুলনায় দামে কোনো ফারাক না থাকার কথা বলছেন বিক্রেতারা। শীতকালীন সবজি এখন শেষ পর্যায়ে। শেষ সময়ে সিম প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে বাজারে উঠেছে পটোল ও বরবটি। যাত্রাবাড়ী এলাকায় পটোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। রাজধানীর শনিরআখড়ার সবজি বিক্রেতা রনি পাটোয়ারী মঙ্গলবার ও বুধবার তার দোকান খোলেননি। বৃহস্পতিবার নতুন কিছু সবজির সঙ্গে পুরানো সবজি মিলিয়ে তিনি বিক্রি করছিলেন। তার দোকানে করলা ৬০ টাকা কেজি, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা ও সজনে ডাঁটা ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। তিনি বলেন, ঈদের সময়ে সালাদের আইটেম বেশি চলে। শসা, টমেটো, পেঁয়াজ, মরিচ ইত্যাদি। মাল টানে কম, তাই আনিও কম। সবাই তো দোকান খোলে না। আমি ঢাকায় থাকি তাই দোকান খুললাম। শসা ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রির তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের আগেও একই দাম ছিল। দাম বাড়েনি। যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগের মুন্সীবাগ বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ বুধবার বিক্রি হয় ৩৬০ টাকা দরে। কাজলা বৌ-বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হারিছুর রহমান বলেন, রুই মাছের দাম বাড়েনি। জিওল (পানিতে মাছ জিইয়ে রাখা) রাখছিলাম কিছু, আইজগা নতুন মাছও আনছি। তাজা রুই মাছ ৩৬০ টাকা কেজিতে বিক্রির তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, পানিতেই মারা গেছে ও ফ্রিজে বরফ দিয়ে রাখিনি এমন রুই ৩২০ টাকা কেজি। কাজলা বৌ-বাজারের মাছ বিক্রেতা তাজুল ইসলাম কাতলা মাছ বিক্রি করছিলেন ৪০০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া তার দোকানে চাষের পাবদা ৪০০ টাকা কেজি, আকারভেদে শিং মাছ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, চিংড়ি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, নলা ১৫০ টাকা ও ছোটে মলা মাছ প্রতি কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

×