ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

যে উদ্যোগের কারণে রেমিট্যান্সে রেকর্ড গড়ছে

প্রকাশিত: ০৯:১০, ৩ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ০৯:১৪, ৩ এপ্রিল ২০২৫

যে উদ্যোগের কারণে রেমিট্যান্সে রেকর্ড গড়ছে

ছবি : সংগৃহীত

ড. জালাল উদ্দিন শিকদার, শিক্ষক ও গবেষক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়,  মার্চ মাসে রেকর্ড ৩০০ কোটি ডলার রেমিটেন্স প্রাপ্তির কারণ বিশ্লেষণ করেন। তার মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সরাসরি আহ্বান এবং প্রবাসী কর্মীদের দেশপ্রেম এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। বিশেষত প্রফেসর ড. ইউনুসের ভাষণে প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি তাদেরকে আরও বেশি রেমিটেন্স পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করেছে। সরকারের এই স্পষ্ট বার্তা যে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে তাদের প্রয়োজন রয়েছে, তা প্রবাসীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

 

 


বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ড. শিকদার ব্যাখ্যা করেন যে হুন্ডি ব্যবস্থা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক কঠোর পদক্ষেপের ফলে এটি উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমানে মাসে ৩০০-৩৫০ মিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স আসলেও, বৈধ চ্যানেলে আরও বেশি অর্থ আনার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রোজা ও ঈদের সময় প্রবাসীরা বেশি অর্থ প্রেরণ করায় এই রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে, তবে এটাকে টেকসই করতে আরও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

 

 


ড. শিকদার প্রবাসীদের আরও উৎসাহিত করার জন্য ফিলিপাইনের মডেল অনুসরণের পরামর্শ দেন। তিনি প্রস্তাব করেন যে বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রেরণকারীদের জন্য লটারিভিত্তিক পুরস্কার ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে, যেখানে বিজয়ীরা প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্য পেতে পারেন। তার মতে, এমন প্রণোদনা ব্যবস্থা প্রবাসীদের মাধ্যমে রেমিটেন্স প্রবাহ দ্বিগুণ করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে শুধু আবেগের আহ্বান নয়, বাস্তব সুবিধা প্রদানই প্রবাসীদের দীর্ঘমেয়াদে উৎসাহিত করবে।

 

  
দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর বাধাগুলো চিহ্নিত করতে গিয়ে ড. শিকদার দুটি মূল সমস্যার কথা তুলে ধরেন- সামাজিক মানসিকতা এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা। বাংলাদেশে অভিভাবকরা সন্তানদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহী হলেও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে কাজ করার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেন না। একই সাথে বর্তমান ট্রেনিং সেন্টারগুলো আন্তর্জাতিক মানের সাথে তাল মেলাতে পারছে না। তিনি সমাধান হিসেবে স্কিল ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ট্রেনিং সেন্টারের মানোন্নয়ন এবং গার্মেন্টস সেক্টরের মতো রেমিটেন্স খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। তার মতে, এই খাতে শক্তিশালী নেতৃত্বের মাধ্যমেই কেবল এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সম্ভব।

সূত্র:https://youtu.be/nHmspah05Yc?si=je21apyAsnVnx13m

আঁখি

×