
.
চলতি বছর রেকর্ড দাম বেড়েছে স্বর্ণের। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা যা, অতীতে কখনো দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়, বছরের প্রথম তিন মাসে সোনার দাম বেড়েছে ১৪ বার আর কমেছে তিনবার। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিন দিন সোনা যেন আরও মূল্যবান হচ্ছে। ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন দেড় লাখ টাকার ওপরে। অথচ এক বছর আগে এই সময়ে তা ছিল ১ লাখ ১১ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভরিপ্রতি (২২ ক্যারেট) সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ৪৭ হাজার টাকা।
মূলত বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ছে। সেই সঙ্গে দেশেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সোনার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম নিয়মিত ওঠানামা করে থাকে। তবে সম্প্রতি যে হারে দাম বাড়ছে, সে হারে আর কমছে না। এ কারণে সোনার মূল্যস্তর ক্রমে ঊর্ধ্বমুখী। দেশে সোনার দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বা বাজুস। সংগঠনটি নিয়মিতই সোনার হালনাগাদ দাম প্রকাশ করে থাকে। বাজুস চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ) মোট ১৭ বার সোনার দাম পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ১৪ বার; দাম কমানো হয়েছে মাত্র ৩ বার। বছরের শুরুতে ১৫ জানুয়ারি সোনার দাম বাড়ানো হয়। তখন ভরিপ্রতি (২২ ক্যারেট) দাম হয় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ টাকা। সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ সোনার দাম বাড়ানোর কথা জানায় বাজুস। এই দফায় দাম বাড়ার পরে সোনার দাম হয়েছে ভরিপ্রতি (২২ ক্যারেট) ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭২ টাকা। দেশের বাজারে এটিই এখন পর্যন্ত সোনার সর্বোচ্চ বা রেকর্ড দাম। ফলে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ভরিপ্রতি সোনার দাম ১৮ হাজার ৪২৯ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে ২১ ক্যারেট মানের সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের সোনা ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকায় ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬ হাজার ৫৩৯ টাকা।
কেন দাম বাড়ছে ॥ সোনা বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না। দেশের বাজারে যে সোনা পাওয়া যায়, তার সবই আমদানি করা। ফলে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়লে দেশেও বাড়ে। সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। প্রতি সপ্তাহেই সোনার দাম নতুন রেকর্ড গড়ছে। মূলত এ কারণেই বাংলাদেশ, ভারতসহ সব দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ছে। নানা কারণেই সোনার দাম বাড়ছে।
তার মধ্যে আছে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিভিন্ন দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির চাপ ও তার জেরে শুল্ক যুদ্ধের আশঙ্কা। ফলে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সুরক্ষিত বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে অনেকে সোনার দিকে ঝুঁকছেন। শেয়ারবাজার থেকে পুঁজি প্রত্যাহার করেও অনেকে সোনা কিনছেন। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বর্তমানে মূলত ট্রাম্পের শুল্ক নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের প্রধান বাজার কৌশলবিদ জো কাভাতোনি সম্প্রতি বলেছেন, চলমান ভূ-অর্থনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তার কারণে মানুষ অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে শঙ্কিত। ট্রাম্প যেভাবে শুল্ক আরোপ করছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। এর পাল্টা হিসেবে অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে শুল্ক আরোপ করবে।