
ভ্যাট বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন
বর্ধিত ২.৫০ শতাংশ ভ্যাট বৃদ্ধির প্রতিবাদে পুরান ঢাকার প্রায় চল্লিশটি বাণিজ্য সংগঠন নিজ নিজ মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। বৈষম্যমূলক করবৃদ্ধি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুই ঘণ্টার জন্য এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
এতে অংশগ্রহণ করেন, বৈষম্যমূলক করবৃদ্ধি প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক সহিদুল হক মোল্লা, সংগঠনটির সদস্য সচিব শহীদুল হক সহীদ, যুগ্ম সদস্য সচিব শহীদুল হক স্বপন, মো. মনির হোসেনসহ কয়েক হাজার ব্যবসায়ী। এ সময় পুরান ঢাকার নবাবপুর রোড, টিপু সুলতান রোড, নর্থ সাউথ রোড, ধোলাইখাল, বিসিসি রোড, আলুবাজার, গুলিস্তান ও কাপ্তান বাজারসহ আশপাশের এলাকা প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
কয়েক হাজার ব্যবসায়ী, তাঁদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রতিনিধিরাও মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করায় তীব্র যানজট তৈরি পুরান ঢাকায়। সংগঠনটির আহ্বায়ক সহিদুল হক মোল্লা মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বলেন, প্রায় চল্লিশটি বাণিজ্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও হাজার হাজার ব্যবসায়ী শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে। সবার দাবি একটাই বর্ধিত ২.৫০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে।
তিনি বলেন, একদিকে, লাগামহীন ব্যাংক সুদ, এলসি জটিলতা, ডলার সংকট অন্যদিকে ভ্যাট ও কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এনবিআর চেয়ারম্যান আশ্বাস দেওয়ার পরও এসআরও জারি করা হচ্ছে না। দ্রুত এসআরও জারি করে ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, অনেক ব্যবসায়ী এখন কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার জন্য বলছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি বাণিজ্য সংগঠনের দাবির মুখে ভ্যাট সাড়ে ৭ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কিন্তু কৃষিযন্ত্রপাতিসহ মেশিনারিজের ভ্যাট কমানো হচ্ছে না। অর্থাৎ এখানে বড় ধরনের বৈষম্য করা হচ্ছে। যেখানে ৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়াই ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে সেখানে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হলো। এটা কেন এবং কি জন্য করা হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা ভ্যাট দিচ্ছি এবং দেব। কিন্তু আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে কিভাবে ভ্যাট পাবেন। রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এই ভ্যাট বাড়ানো হয় তাহলে তা মঙ্গলজনক হবে না।
কারণ ভ্যাট বাড়ানোর ফলে বেচাকেনা কমে গেছে। এতে বরং ভ্যাট থেকে রাজস্ব আয় আরও কমে যেতে পারে। সহিদুল হক মোল্লা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি। কিন্তু আমাদের কথা শুনতে হবে দাবি মানতে হবে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ রাখার কথা চিন্তা করছেন। এমন অবস্থা তৈরি হলে দেশের শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
কারণ এই পুরান ঢাকা থেকে সারাদেশে মেশিনারিজ ও অন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, বছরের মাঝামাঝি সময়ে এভাবে ভ্যাট বাড়ানো যৌক্তিক হয়নি। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীসহ অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ও বৈঠক হওয়া উচিত ছিল।
সংগঠনটির সদস্য সচিব শহীদুল হক সহীদ বলেন, ৭.৫০ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই আমরা বর্ধিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছি। আশা করছি, দ্রুত এনবিআর ভ্যাট কমিয়ে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে। এদিকে, মানবন্ধন কমসূচিতে আগামী সাতদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে বর্ধিত ভ্যাট প্রত্যাহারের এসআরও (প্রজ্ঞাপন) জারি করার দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা।
অন্যথায় আরও কঠোর কমসূচি দেওয়ার কথা জানানো হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা বক্তব্যে বলেন, দাবি পূরণ না হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ঘেরাও করার মতো কর্মসূচি দিতে তাঁরা বাধ্য হবেন। এদিন দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মার্কেট বন্ধ রেখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচি পালন করে। তাঁরা অত্যাবশকীয় কৃষি ও শিল্প-কারখানার ব্যবহৃত যন্ত্র ও যন্ত্রাংশের সব পর্যায়ে আরোপিত বর্ধিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
তাঁরা বলেন, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের মাঝপথে এসে কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত ডিজেল ইঞ্জিন মোটর পাম্প, অগভীর ও গভীর পাম্প (সাবমারসিবল পাম্প) শিল্প-কলকারখানার ব্যবহৃত মেশিনারিজ ও যন্ত্রাংশের ওপর কর ও ভ্যাট বৃদ্ধি করায় আমরা ব্যবসায়ীরা এবং কৃষক সমাজ হতাশ ও উদ্বিগ্ন। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়াই গত ৯ জানুয়ারি এই কর বৃদ্ধি সংক্রান্ত গেজেট নোটিফিকেশন করা হয়েছে।
সরকার কর ও ভ্যাট ব্যাপকহারে বৃদ্ধি করায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, ক্রেতা সাধারণও পণ্য কিনতে আগ্রহ হারিয়েছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে।