
ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের নির্দেশনায় ভোজ্য তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে দেশব্যাপী বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এরই অংশ হিসেবে অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক জনাব বিকাশ চন্দ্র দাস এঁর নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরের কাওরানবাজারে ভোজ্য তেলের উপর তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল এবং প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ দিদার হোসেন।
অভিযানে পরিলক্ষিত হয় যে,
১। কতিপয় দোকানের সহজে দৃশ্যমান স্থানে ভোজ্যতেল প্রদর্শন করা হচ্ছে না এবং ক্রেতাকে তেল নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে । কিন্তু তল্লাশিতে দোকানের গোপনীয় স্থানে বিপুল পরিমাণে ভোজ্য তেলের (৫ লিটারের ২০০ কাটুন এর অধিক) মজুদ পাওয়া যায়।
২। তদারকিকালে ২০২৩ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত উৎপাদিত তেল যা ২০২৪ সালের মে থেকে অক্টোবরে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে এমন ৫ লিটারের ৬ কাটুন সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়।
৩। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উৎপাদিত ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল যার MRP ৮১৮ টাকা কিন্তু, ৮৫০ -৮৫২ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
৪। কতিপয় খুচরা ব্যবসায়ী তেল লুকিয়ে রেখে গোপনে বিক্রি করছেন কিন্তু, সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন না।
এ সকল অপরাধে কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেটের মেসার্স রামগঞ্জ জেনারেল স্টোরকে ৫ হাজার টাকা, মেসার্স রতন স্টোরকে ১০ হাজার টাকা, মেসার্স নূর স্টোরকে ৫ হাজার টাকা, আল আরাবিয়া গ্রোসারী এন্ড চাইনিজকে ৫ হাজার টাকা, মায়ের দোয়া স্টোরকে ২০ হাজার টাকা, মেসার্স তুহিন জেনারেল স্টোরকে ৫ হাজার টাকা এবং হাজী মিজান এন্টারপ্রাইজকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকাসহ ৭টি প্রতিষ্ঠানকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে ঢাকা জেলা কার্যালয়ের, সহকারী পরিচালক, জনাব ফাহমিনা আক্তার এবং ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব শিকদার শাহীনুর আলম কর্তৃক শান্তি নগর বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে শান্তিনগর বাজারের দুইটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বাজারে তেলের সংকট নেই কিন্তু কিছু পাইকারি ও খুচরা অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফা লাভের আশায় তেল লুকিয়ে রাখার কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখানো হচ্ছে। মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মনিটরিং কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে।
শিহাব