ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

বাংলাদেশের জন্য নতুন অংশীদারিত্ব কাঠামো

১২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৪১, ২৮ এপ্রিল ২০২৩

১২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

.

বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নে সহায়তা দিতে তিন প্রকল্পে ১২৫ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্ব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এছাড়া বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি অংশীদারিত্ব কাঠামো (পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক) তৈরি করেছে সংস্থাটি, যা ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে পৌঁছানোর লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

শুক্রবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশী মুদ্র্রায় ডলারপ্রতি ১০৭ টাকা হিসাবে সংস্থাটির অনুমোদন দেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নতুন পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্কের (সিপিএফ) আওতায় ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সিপিএফ তৈরিতে সংস্থাটি প্রধান অংশীদার, সরকার, বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ, বিশেষজ্ঞ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংক জানায়, অনুমোদন পাওয়া ঋণের মধ্যে পুষ্টি, উদ্যোক্তা এবং টেকসই কৃষি গ্রামীণ রূপান্তরের জন্য ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে, যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। আরেকটি প্রকল্পে সবুজ এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন এবং উত্তরণে ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে। আর ২৫ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন এবং আরও গতিশীল, কম-দূষণকারী হিসেবে তাদের পরিণত করতে। আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাটি জানায়, সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-৪১ বাস্তবায়নে সিপিএফ সহায়ক হবে। বিশ্বব্যাংকের এই অর্থ বাংলাদেশকে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনে বাংলাদেশের লক্ষ্যকে সহায়তা করার পাশাপাশি উচ্চ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে। এছাড়া, বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানে সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। যার  ফলে আর্থ-সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং জলবায়ু পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে।

এই অংশীদারিত্ব কাঠামোর (সিপিএফ) আওতায় আটটি উদ্দেশ্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে-বেসরকারি খাতের উন্নয়নের জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য আর্থিক মধ্যস্থতাকে শক্তিশালী করা, উন্নত সেবা প্রদানের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা, মানবসম্পদ উন্নয়নের ন্যায়সঙ্গত প্রবেশ নিশ্চিত করা, নারী এবং দুর্বল গোষ্ঠীর জন্য উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা।

এছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল সংযোগ শক্তিশালী করা, জলবায়ু প্রভাব মোকাবিলায় ডেল্টা ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো।

বাংলাদেশ ভুটানের বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক বলেন, এই কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্কটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এবং বাংলাদেশের মধ্যে পাঁচ দশকের শক্তিশালী অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে, সেহেতু উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের চাহিদা পূরণের জন্য আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং নীতির প্রয়োজন হবে। এই সিপিএফ চাকরি প্রদানের জন্য সরকারের সংস্কার কর্মসূচিকে সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠানমাল্টিলেটারাল ইনভেস্টমেন্ট গ্যারান্টি এজেন্সি (মিগা) ভাইস প্রেসিডেন্ট অব অপারেশনস জুনাইদ কামাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য রয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের মর্যাদা অর্জনের জন্য বেসরকারি পুঁজি এবং বৈশ্বিক বাজার থেকে অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা ক্রমান্বয়ে বাড়বে।

বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভুটানের আইএফসি কান্ট্রি ম্যানেজার মার্টিন হল্টম্যান জানান, বাংলাদেশ বিশ্বের অসামান্য উন্নয়ন প্রবৃদ্ধির গল্পগুলোর মধ্যে একটি। আরও বহুমুখী এবং প্রতিযোগিতামূলক বেসরকারি খাতের উন্নয়নে উদ্বুদ্ধ করার জন্য আরও সংস্কার দেশটির রপ্তানি বাড়াবে এবং মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এছাড়া এই অর্থ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা এবং প্রশমিত করতে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য, তিনটি প্রকল্পের অর্থায়নের ফলে দেশে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৩০ কোটি ডলার। আর বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের মাল্টিলেটারাল ইনভেস্টমেন্ট গ্যারান্টি এজেন্সির দেওয়া ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারের কিছু বেশি। এছাড়া আইএফসির প্রায় একশ কোটি ডলারের একটি প্রকল্প চলমান আছে।

×