
ছবি: সংগৃহীত
সাগরে চলাচলের সময় জাহাজের নাবিকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা থাকে- কোনো অবস্থাতেই যেন সাগরে খাবার ফেলা না হয়। কিন্তু কেন?
জাহাজ থেকে সাগরে খাবার না ফেলার নির্দেশ শুধুমাত্র আইনগত নয়।জাহাজ ও সার্বিক ক্ষতি এড়াতেই এই নির্দেশনা।
সাগরে খাবার ফেললে যেসব বিপদ হতে পারে:
১. জাহাজ থেকে সাগরে খাবার ফেললেই শুরু হয় নানারকম মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীদের আনাগোনা। সাধারণত সমুদ্রের উপরের স্তরের ছোট মাছেরাই আসে খারার খেতে। তবে তাদেরকে একসাথে দেখে নিচের স্তরের বড় ও হিংস্র মাছেরাও উঠে আসতে পারে। এর ফলে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
২. একবার খাবারের সন্ধান পেলে সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণীরা জাহাজের আশেপাশে ঘুরতে থাকে। এতে করে জাহাজের গতিপথ হুমকির মুখে পড়তে পারে।
৩. সাগরে খাবার ফেললে শুধু মাছ নয়, সিগাল ও অন্যান্য পাখিরাও সেখানে ভীড় জমায়। এতে জাহাজের আশেপাশে প্রচুর পাখির সমাগম হয়। এসময় কোনো হেলিকপ্টার নামতে চাইলে বা গেলে পাখির আক্রমণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
৪. আমাদের একটি ভুল ধারণা হলো খাবার পচনশীল পদার্থ যা সাগরের পানিতে মিশে যাবে। তবে বাস্তবে খাবারের মশলা, লবণ ও রাসায়নিক পানির স্বাভাবিক মান নষ্ট করে।
৫. বেশি খাবার ফেললে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়, যা সাগরের প্রাণীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
৬. খাবারের উচ্ছিষ্ট জমা হয়ে নোংরা ও দুর্গন্ধ হতে পারে যা জীববৈচিত্র্যের জন্য ধ্বংসাত্মক।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী জাহাজ থেকে খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব আইন না মানলে জাহাজকে গুণতে হবে মোটা অংকের জরিমানা। কিছু দেশে শিপিং কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলও হতে পারে। এমনকি বন্দরে প্রবেশের আসতে পারে নিষেধাজ্ঞা।
জাহাজে যদি খাবার ফেলতেই হয় তবে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। এখান থেকে বিশেষ মেশিনের মাধ্যমে বর্জ্য প্রসেস করে ফেলা হয়। এতে পরিবেশের ক্ষতি হয় না। তাই জীবন ও পরিবেশের সুরক্ষায় সাগরে খাবার ফেলা আইনগতভাবে নিষেধ।
মায়মুনা