
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের কিছু আশ্চর্যজনক গাছ, যাদের দেখে বিজ্ঞানীরাও হতবাক। এসব গাছ তাদের ব্যতিক্রমী আকৃতি, রং ও জীবন পরিচালনার পদ্ধতির কারণে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
এরকম কিছু গাছ হলো:
১. সকোত্রা ড্রাগন গাছ: গাছটি যেন কোনো ফ্যান্টাসি সিনেমা থেকে উঠে এসেছে। এর নাম ড্রাগন রাখার কারণ হলো এর কান্ড থেকে লাল রঙের যে রস বের হয়, তা দেখতে রক্তের মতো। ইয়েমেনের সকোত্রা দ্বীপে এই গাছ পাওয়া যায়। এর ছাতার মতো আকৃতি অন্যান্য গাছ থেকে আলাদা করে তুলে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো এই গাছ শত শত বছর বেঁচে থাকতে পারে। এই গাছের ছাল এবং রস ওষুধ ও রং তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।
২. রেইনবো ইউক্যালিপটাস: নাম থেকেই বোঝা যায় এটি একটি রঙিন গাছ। এর ছালের ওপর তৈরি হওয়া রঙিন স্ট্রাইপ একে এমন চেহারা দেয় যেন কেউ তুলি দিয়ে এঁকেছে। এটি মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায় এবং কাগজ তৈরির জন্য চাষ করা হয়।
৩. বাওবাব গাছ: এটিকে বলা হয় লাইফ ট্রি। আফ্রিকা ও মাদাগাস্কারে পাওয়া বিশাল আকৃতির এই গাছ তার মোটা কমান্ডের ভেতরে হাজার হাজার লিটার পানি সংরক্ষণ করতে পারে। এই গাছ ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে ও কয়েক হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এর ছাল এবং ফল খাওয়া হয় এবং ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
৪. জাবুটিকাবা: ব্রাজিলের এই গাছটি একটি ইউনিক গাছ। এর বৈশিষ্ট্য হলো এর ডাল বা পাতার বদলে সরাসরি কান্ডে ফল ধরে। আঙ্গুরের মত ছোট ছোট এই ফল জ্যাম, জুস ও ওয়াইন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
৫. উইস্টেরিয়া: এটি একটি লতা গাছ যা জাপানের কিছু অঞ্চলে পাওয়া যায়। এটি অসাধারণ সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এর বেগুনী ও সাদা ফুলগুলো। এটি দেখতে যতটা সুন্দর, এর সুগন্ধ ততটাই মোহনীয়।
৬. দ্যা প্রেসিডেন্ট গাছ: এই গাছটি ক্যালিফোর্নিয়ার সিকোইয়ার ন্যাশনাল পার্কে পাওয়া যায়। এটি ২৪৭ ফুট লম্বা ও পৃথিবীর অন্যতম সিকোইয়ার গাছ। এর নাম প্রেসিডেন্ট রাখা হয়েছে কারণ, এটি তার আকার ও বয়সের কারণে গাছেদের নেতা বলে বিবেচিত হয়। এটি প্রায় ৩২০০ বছরের পুরোনো।
৭. সিল্ক কটন গাছ: কম্বোডিয়ার অ্যাঙ্কর ওয়াকের মন্দিরের পাশে বিশাল গাছগুলো তাদের শিকড়ের জন্য বিখ্যাত। এদের শিকড় এতো মোটা যেন মনে হয় তারা মন্দিরটিকে আঁকড়ে ধরে আছে। এই গাছগুলো মন্দিরটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে এবং এটি অতীতের এক স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
৮. চেরি ব্লোসম: জাপানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই ফুল বসন্তকালে ফোটে। তখন পুরো এলাকা গোলাপি ও সাদা রঙে ছেয়ে যায়। এর সৌন্দর্য দেখে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য।
৯. দ্যা গ্রেট বেনইয়ান গাছ: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত এই গাছটি দেখে যে কেউ বিস্মিত হবে। এটি দেখতে একটি পুরো বনাঞ্চল মনে হলেও এটি একটি গাছ। এর শিকড় এতোটাই বিস্তৃত যে প্রায় ৪.৬ একর জমির ওপর ছড়িয়ে রয়েছে।
১০. সিলভার বার্চ গাছ: এই গাছটি তার সাদা ও সরু কান্ডের জন্য বিখ্যাত। দেখে মনে হবে যেন কোনো শিল্প প্রদর্শনীতে রাখা শিল্পকর্ম। এই গাছটি উত্তর ইউরোপ ও এশিয়ায় পাওয়া যায়। এর ছাল ওষুধ ও গয়না বানাতে কাজে লাগে।
মায়মুনা