ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

সেরা তিন কিশোর ক্লাসিক

আলম মেসবাহ

প্রকাশিত: ২২:১২, ৪ এপ্রিল ২০২৫

সেরা তিন কিশোর ক্লাসিক

তিন কিশোর ক্লাসিক

বন্ধুরা, তোমরা যারা বিদেশি সাহিত্য এবং রহস্য-রোমাঞ্চের বই পছন্দ করো তাদের জন্য আজ বিশ্বসেরা তিনিটি বই নিয়ে লিখছি। বই তিনটি চাইলে অনলাইন থেকে মূল ভাষায় এবং বাংলা অনুবাদেও পড়তে পারো। চলো, দেরি না করে সরাসরি বইয়ের আলাপেই ঢুকে পড়া যাক।
অ্যাডভেঞ্চার অব টম সয়্যার: বই পড়ে কিন্তু মার্ক টোয়েনকে চেনে না এমন মানুষ কম আছে। অ্যাডভেঞ্চার গল্প প্রিয় প্রতিটি মানুষের প্রিয় লেখক মার্ক টোয়েন। ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘অ্যাডভেঞ্চার অব টম সয়্যার’। প্রকাশের পর তুমুল জনপ্রিয় এই বই সব দেশের কিশোরদের প্রিয় বইয়ের তালিকায় উঠে আসে। এরপর ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয় ‘অ্যাডভেঞ্চার অব হাকলবেরি ফিন’। এই বইটিও অসম্ভব জনপ্রিয়তা পায়।

কেন এই বই সর্বকালের অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ কিশোর ক্লাসিক? তাহলে একটু কাহিনীটা জেনে আসা যাক। গল্পটা শুরু হয় টম নামের এক দুষ্টু বালককে নিয়ে। তার জ্বালায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। সে থাকে তার পলি খালার সাথে। তার সৎ ভাই সিডের সাথে তার সাপে নেউলে সম্পর্ক। তার দুষ্টুমির সব খবর সিডের মাধ্যমে পলি খালার কাছে চলে যায়। তবে টমের দুষ্টুমি চলতেই থাকে।
এদিকে তার বন্ধু হাকলবেরি ফিন এক ভবঘুরে ছেলে। টমের সকল অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গী সে। তাদের এই নানাবিধ অ্যাডভেঞ্চারের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে থাকে গল্পের কাহিনী। একরাতে ভেলা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে তারা মিসিসিপি নদীতে। সেখানে এক দ্বীপে একটা গুহার সন্ধান পায় তারা। এখন সেই গুহায় গুপ্তধন খুঁজতে গিয়ে কি তারা বিপদের মুখে পা দিতে চলেছে? জানতে হলে এখনই পড়া শুরু করে দাও বইটি।
অ্যাডভেঞ্চার অব হাকলবেরি ফিন: ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত মার্ক টোয়েনের ‘অ্যাডভেঞ্চার অব হাকলবেরি ফিন’-এর হাকলবেরি ফিনকে আমরা প্রথম দেখি লেখকের রচিত ‘টম সয়্যার’-এ। মদ্যপ পিতার খপ্পর থেকে পালাচ্ছে ১৪ বছর বয়সের হাক, তার সঙ্গে নিগ্রো দাস জিম। আমেরিকার দক্ষিণে, মিসিসিপি-আলাবামা অঞ্চলে সে সময় দাসব্যবস্থার ব্যাপক প্রচলন। সেই দক্ষিণ ছেড়ে জিম পালাচ্ছে মুক্তির আশায়।
আমেরিকার উত্তরে অনেক রাজ্যে তত দিনে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ হয়েছে। সেখানে কোথাও আশ্রয় মিললে সে মুক্তি পাবে, তার পরিবারের সদস্যদের মুক্তি আদায়ও তার পক্ষে হয়তো সম্ভব হবে। পলায়নরত দাসদের ধরার জন্য তখন চারদিকে সাদা মানুষ ওত পেতে বসে আছে। কেউ ধরা পড়লেই তার শাস্তি গাছের ডালে ঝুলিয়ে ফাঁসি। বয়সের বিস্তর ফারাক সত্ত্বেও জিমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে হাক ফিন, তাকে আশ্রয় দেয় নিজের নৌকায়।
দাসপ্রথা খুব খারাপ কিছু, এ কথা হাকের মনে আগে কখনো জাগেনি। দাসপ্রথার বিলোপ হোক, এ কথাও সে আগে কখনো ভাবেনি। কিন্তু যতই জিমের সঙ্গে তার পরিচয় ঘন হয়, তার ভেতর সে একজন চমৎকার মানুষের খোঁজ পায়। নিগ্রো বলে ঘৃণ্য কিছু নয়, জিম তারই মতো একজন মানুষ, যে তার মতোই মুক্ত জীবনের স্বাদ পেতে চায়। জিমকে সে পালাতে সাহায্য করে। তাদের এই মুক্তির অ্যাডভেঞ্চারের কাহিনী নিয়ে ক্লাসিক এই বইটি রচিত।
আঙ্কেল টমস কেবিন: ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হ্যারিয়েট বিচার স্টো-এর লেখা ‘আঙ্কেল টমস কেবিন’ সেই সময়ের দাস প্রথা নিয়ে লেখা। ১৯ শতকে সর্বাধিক বিক্রির শীর্ষে ছিল এই বই। ধারণা করা হয় বাইবেলের পর এই বই বিক্রির হার সবচেয়ে বেড়ে গিয়েছিল। প্রকাশের প্রথম বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বইটির ৩০০,০০০ কপি বিক্রি হয়। আর গ্রেট ব্রিটেনে এক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। ১৮৫৫ সালে প্রকাশের ৩ বছরের মাথায় এটি সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস হয়ে ওঠে। আমেরিকার গৃহযুদ্ধে এই বই ভূমিকা রাখে।
এক নিগ্রো ক্রীতদাসের অটোবায়োগ্রাফি পড়ে এই বই লেখার অনুপ্রেরণা পান হ্যারিয়েট। কাহিনী জেনে আসা যাক। কেন্টাকির এক ফার্মের মালিক আর্থার শেলবি অর্থাভাবে পড়েন। তিনি ও তার স্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন তাদের বিশ্বস্ত ক্রীতদাস টম, আরেকজন মহিলা ক্রীতদাস এলিজা ও তার ছেলে হ্যারিকে বিক্রি করবে। তারা মনিব হিসেবে খুবই ভালো ছিলেন। কিন্ত আর কোন উপায় ছিল না। এদিকে এলিজা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে তার ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যায় টমের সহায়তায়।
শেলবি দম্পতির ছেলে জর্জ তার প্রিয় আঙ্কেল টমের এই অবস্থা দেখে কষ্ট পায়। নানা ঘটনাক্রমে টমকে কিনে নেয় আগাস্টিন ক্লেয়ার। তার মেয়ে ইভার সাথে টমের বন্ধুত্ব হয়ে যায়। তার প্রিয় আঙ্কেল টমের সাথে দিনকাল ভালোই কাটতে থাকে। কিন্ত এক কঠিন অসুখ হয় ইভার। আরো নানা ঘটনায় টম অন্য মালিকের কাছে যায়। এবারের মালিক ছিল অত্যাচারী।

ওদিকে প্রথম মালিকের ছেলে জর্জ তার প্রিয় আঙ্কেল টমের মুক্তির জন্য চেষ্টা করতে থাকে। কিন্ত ততদিনে কি খুব বেশি দেরি হয়ে গেলো? জর্জ কি পারবে আঙ্কেল টমকে উদ্ধার করতে? সমাজের এই জঘন্য ক্রীতদাস প্রথাকে ভাঙতে?

×