
ডাকাত আর ভালুক
একদা, গভীর অরণ্যের ভেতর এক ডাকাত ভালুক বাস করত। তার গা থেকে বের হত ভয়ানক গন্ধ, আর সে ছিল খুব শক্তিশালী। বনের সব প্রাণী তাকে ভয় পেত। কেউ তার কাছে গেলে সে তাদের হুমকি দিত, তার চোখে ছিল এক অদ্ভুত তীব্রতা। সবাই জানত, ভালুকের কাছে গেলে একমাত্র বিপদই অপেক্ষা করে।
তবে, ভালুকের মধ্যে এক অদ্ভুত দুঃখও ছিল। সে ছিল একা, তার কোনো বন্ধু ছিল না। তার শিকারী জীবন এবং অপরাধী কাজের কারণে কেউ তার সাথে বন্ধুত্ব করত না। সে বার বার ভাবত, ‘কেন আমি একা? সবাই আমাকে ভয় পায়, কেউ আমাকে বুঝতে চায় না।’
একদিন, বনের এক ছোট সজারু ভালুকের সামনে এসে দাঁড়াল। সজারু তাকে দেখিয়ে বলল, ‘ভালুক দাদা, তুমি কেন সবাইকে ভয় দেখাও? তোমার কি কখনও বন্ধু দরকার হয়নি?’
ভালুক একটু বিরক্ত হয়ে উত্তর দিল, ‘বন্ধু? আমি তো সবসময় একা, শুধু শিকারের খোঁজে থাকি। শক্তির বড়াই আছে আমার। আমি যে যেভাবে চাই, সেভাবে বাঁচি।’
সজারু কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে বলল, ‘তুমি যদি আমাদের মতো দুর্বল প্রাণীদের সাহায্য করতে শুরু করো, তবে দেখবে অনেকেই বন্ধু হয়ে গেছে। আমাদের সবাই একে অপরকে সাহায্য করে। আমরা শক্তি দিয়ে একে অপরকে শক্তিশালী করি. ঘায়েল করি না।’
ভালুক এই কথাগুলো শুনে একটু থমকে গেল। সে প্রথমবারের মতো ভেবেছিল যে, সত্যিই কি সে কিছু ভুল করছিল? সে তো শুধু নিজের শক্তি দিয়ে শিকার করত, অন্যদের সাহায্য করার কোনো চিন্তা তার মাথায় আসেনি।
পরের দিন, ভালুক সিদ্ধান্ত নিল, সে তার শক্তি ভালো কাজে ব্যবহার করবে। সে প্রথমে বনের প্রাণীদের সাহায্য করতে শুরু করল। একদিন, বনের এক পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বড় একটা পাথর পড়ে থাকার কারণে। অন্যান্য প্রাণীরা সেই পাথর সরাতে পারছিল না। ভালুক তার বিশাল শক্তি দিয়ে পাথরটি সরিয়ে দিল। সেই দিন থেকেই বনের প্রাণীরা দেখতে পেল, ভালুক এখন তাদের সহায়ক।
কিছুদিন পর। বনের প্রাচীন এক গাছের নিচে একটি শুয়োপোকা বাস করত। গাছটির শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং শুয়োপোকা ক্ষতি করছিল জানিয়ে বনবাসীরা ভালুককে বলল। ভালুক এগিয়ে গিয়ে শুয়োপোকাকে বলল, ‘তুমি যদি গাছটির শিকড় খাও, তাহলে অনেক প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তুমি অন্য কোথাও চলে যাও, তাহলে সবাই নিরাপদ থাকবে।’
শুয়োপোকা তার কথা মেনে চলে গেল। ভালুক এবার বুঝতে পারল, শক্তি শুধু ধ্বংসের জন্য নয়, বরং শান্তি এবং সহানুভূতির জন্যও ব্যবহার করা যায়। এভাবে ভালুক তার শক্তি ব্যবহার করে বনের সমস্ত প্রাণীদের সহযোগিতা করল। সে আর কোনো দিন ডাকাত ভালুক ছিল না, এখন সে ছিল বনের এক প্রিয় বন্ধু। তার মধ্যে পরিবর্তন এসেছিল, এবং সকলেই তাকে সম্মান করতে শুরু করল।