ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

টাকা সুখ কিনতে পারে না: ফিনল্যান্ড আমাদের যা শেখায়

প্রকাশিত: ১৫:১৬, ২ এপ্রিল ২০২৫

টাকা সুখ কিনতে পারে না: ফিনল্যান্ড আমাদের যা শেখায়

ছবি: সংগৃহীত

ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৫ অনুযায়ী, ফিনল্যান্ড আবারও বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ ২০ থেকে ছিটকে গেছে, আর ভারত ১১৮তম স্থানে, এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের চেয়েও পিছিয়ে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ (১৩৪তম), শ্রীলঙ্কা (১৩৩তম) এবং পাকিস্তান (১০৯তম)—এই দেশগুলোর অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। তাহলে ফিনল্যান্ড কী করছে যা অন্যরা করতে পারছে না?

নর্ডিক মডেল: টাকা নয়, সুখ আসে অন্য উৎস থেকে

নর্ডিক দেশগুলো—ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইডেন এবং নরওয়ে—প্রতিবারই শীর্ষে থাকে, কিন্তু শুধু ধনী হওয়ার কারণে নয়। তাদের সমাজে যা আছে:

উচ্চ সামাজিক আস্থা—মানুষ সরকার বা প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখতে পারে।

শক্তিশালী কল্যাণমূলক নীতি—ফিনল্যান্ডে ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং ১৪ মাসের পিতৃত্ব/মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়া যায়।

সঠিক কাজ ও জীবনের ভারসাম্য—ফিনরা বছরে মাত্র ১,৪০০ ঘণ্টা কাজ করে, যা দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় অনেক কম।

সামাজিক সংযোগ—মানুষ পারিবারিক চাপের বাইরে গিয়েও সমাজের জন্য কাজ করে।


এই কারণগুলো একটি নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসী সমাজ গড়ে তোলে, যেখানে মানুষ জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখে।

ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলো: সুখ কেন অধরা?

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও ভারতের অবস্থান ১১৮তম, এবং এর প্রতিবেশীরাও একই সমস্যায় ভুগছে:

চীন (৬৮তম) অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে থাকলেও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সামাজিক বিশ্বাসের অভাব রয়েছে।

নেপাল (৯২তম) তুলনামূলকভাবে শান্ত জীবনযাপন করে, তবে দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা সমস্যা তৈরি করছে।

পাকিস্তান (১০৯তম) ও বাংলাদেশ (১৩৪তম)—রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক চাপে জীবন কঠিন হয়ে পড়েছে।

শ্রীলঙ্কা (১৩৩তম) বর্তমানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে, যার ফলে মানুষের সুখের মাত্রা আরও কমেছে।

আফগানিস্তান (১৪৭তম) রয়েছে তালিকার একেবারে নিচে, কারণ যুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতা মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।


মূল সমস্যা: দুর্নীতি, অতিরিক্ত কাজ, ও নিরাপত্তার অভাব

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কেন সুখী হতে পারছে না?

দুর্নীতি ও অবিশ্বাস—মানুষ সরকারের ওপর ভরসা করতে পারে না।

কাজের ভারসাম্যহীনতা—দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত চাপ এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা।

সামাজিক নিরাপত্তার অভাব—মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার অভাব থেকে আসে দুশ্চিন্তা।

সামাজিক সংযোগ না থাকা—নর্ডিক দেশগুলোতে সামাজিক মেলবন্ধন ব্যক্তিগত সুখ বাড়ায়, কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় সামাজিক সংযোগের বদলে পারিবারিক চাপ বেশি থাকে—যেমন, "কবে বিয়ে করছো?" জাতীয় প্রশ্নগুলো!


যুক্তরাষ্ট্র: সম্পদ থাকলেও সুখ কম

যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যাটা একটু আলাদা—তারা খুব বেশি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী, ফলে মানুষ একা হয়ে পড়ছে। সেখানে তরুণ প্রজন্ম পরস্পরের সাথে কথা বলার চেয়ে মেসেজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ফলে, প্রচুর অর্থ থাকলেও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও নিঃসঙ্গতা সুখ কেড়ে নিচ্ছে।

প্রকৃত শিক্ষা: বিশ্বাস > জিডিপি

সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, সুখের জন্য অর্থনীতির চেয়ে সামাজিক আস্থা, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফিনল্যান্ড দেখিয়েছে, মানুষ যদি তার দেশ ও সমাজের ওপর আস্থা রাখতে পারে, তাহলে অর্থ নয়, বরং নিরাপত্তা ও স্বস্তির অনুভূতি সুখ নিয়ে আসে।

সমাধান? কম দুর্নীতি, সঠিক কাজ-জীবনের ভারসাম্য এবং নীতিনির্ধারকদের মানুষের কল্যাণে কাজ করা। যদি এসব সম্ভব না হয়, তাহলে?

 

সূত্র: https://timesofindia.indiatimes.com/blogs/voices/why-cant-money-buy-happiness-ask-finland-or-perhaps-dont-ask-america-and-india/

আবীর

×