ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ৩১ মার্চ ২০২৫, ১৭ চৈত্র ১৪৩১

হিটলারের দেশে সেহেরি-ইফতার

প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ২৮ মার্চ ২০২৫

হিটলারের দেশে সেহেরি-ইফতার

ছবি: সংগৃহীত

মধ্য ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশ জার্মানি। ইতিহাসখ্যাত দানিয়ব ও রাইনপারের দেশটিতে প্রায় ৪০ লক্ষ মুসলমানের বসবাস। সংখ্যালঘু মুসলিম নাগরিকের এই দেশে পবিত্র মাহে রমজানের আমেজ আমাদের পরিচিত ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর চেয়ে ভিন্ন। জার্মান মুসলমানদের বেশিরভাগ তুর্কি কিংবা তুরস্কের বংশোদ্ভূত। বাকিদের অধিকাংশই আরব বিশ্ব অথবা আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসী। তাই এখানে রমজান পালনে থাকে বৈচিত্রের ছোঁয়া।

ইউরোপের অন্যান্য দেশের মুসলমানদের মতো সাদামাটা হয়ে থাকে জার্মান মুসলমানদের ইফতার। পবিত্র রমজান মাসে স্থানীয় মসজিদ অথবা মুসলিম কমিউনিটি হলগুলো হয়ে ওঠে জার্মানিতে বসবাসরত মুসলমানদের মিলন মেলা। এখানে খুবই কম মসজিদের সংখ্যা। সেই সাথে রাষ্ট্রীয় নিয়মের কারণে বাইরে শোনা যায় না আজানের শব্দ। আজানের ধ্বনি শুনে ইফতারের সুযোগ এখানে প্রায় নেই বললেই চলে।

তুর্কি প্রভাবিত কমিউনিটিগুলোতে ইফতারের সময় রোজা ভাঙতে খেজুরের পরিবর্তে খাওয়া হয় জলপাই। সাথে থাকে নানা রকম জুস আর সুন্নতি ফল তাজা খেজুর। দস্তরখানে থাকে রমাজান পিদে, রমাজান কিবাবি, পেস্ট্রি, পুডিং, মিষ্টি হালুয়া ও বাকলাভার মত মুখরোচক খাবার। এখানকার ইফতারে দেখা মেলে বিভিন্ন রকম স্থানীয় খাবার। ডনের কেবাব, প্রেজেল ও কেহসু স্পেজেল, কার্টোফেল পাফার, ওয়াইনারশিনজলের মত জার্মান খাবারেরও আছে বেশ কদর। ইফতারিতে টার্কিশ জার্মানদের পছন্দ মিষ্টি জাতীয় খাবার কাবাক তাতলিশি।

জার্মানিতে রমজান শুরুর কোন সার্বজনীন তারিখ ঘোষণা হয় না। ফলে কবে থেকে রোজা শুরু করা হবে সেটা নিয়ে থাকে অনিশ্চয়তা। দেশটিতে ১৫ ঘন্টার বেশি হয়ে থাকে রোজার সময়।

জার্মানিতে প্রথম মসজিদ তৈরি হয় ১৯১৫ সালে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে মুসলমানদের সংখ্যা। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসা আযানের শব্দেই ইফতার করতে পারবেন জার্মান মুসলমানরা।

 

সূত্র: https://www.youtube.com/watch?v=_13sbHcjkew

আবীর

×