
ছবি: সংগৃহীত
দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশে আমরা যেসব মেঘমালাকে তুলোর মত ভেসে থাকতে দেখি সেগুলোর ওজন আসলে কেমন- এমন প্রশ্ন মনের কোণে উঁকি দিতেই পারে। আর এই প্রশ্নের উত্তরে মাথায় আসবে, মেঘ যেহেতু আকাশে ভেসে থাকে তাহলে সম্ভবত হালকাই হবে।
কিন্তু হওয়ার মতো ব্যাপার হলো, একটি মেঘের ওজন প্রায় ৬০০ টন পর্যন্ত হতে পারে। আর বিস্ময়করভাবে এই তথ্যটি পবিত্র কোরআনে আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে বর্ণিত হয়েছে।
পবিত্র কোরআনের আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন (বাংলা অর্থ),
'তিনি বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রেরণ করেন। অতঃপর যখন ওই বাতাস ভারি মেঘমালাকে বহন করে নিয়ে আসে, তখন আমি ওই মেঘমালাকে কোন নির্জীব ভূখন্ডের দিকে পাঠিয়ে দেই। যা থেকে আমি পানি বর্ষণ করি, তারপর সেই পানির সাহায্যে সেখানে সর্বপ্রকার ফল-ফলাদি উৎপাদন করি। এমনিভাবেই আমি মৃতকে জীবিত করি, যাতে তোমরা এটা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারো' (সূরা আরাফের, আয়াত ৫৭)।
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,
'তিনি ভয় ও আশা সঞ্চার করার জন্য তোমাদেরকে বিজলি দেখান এবং তিনি ভারি মেঘমালা সৃষ্টি করেন' (সূরা রা'দ, আয়াত ১২)।
এই আয়াত দুটো থেকে ধারণা করা যায়, মেঘ ওজনে হালকা নয়, যেমনটা আমরা মনে করি। করতে পারো বরং মেঘ ওজনে অনেক ভারি।
এবার দেখা যাক, মেঘের ওজন সম্পর্কে বিজ্ঞান কী বলে?
মেঘ মূলত বাতাসে থাকা জলীয়বাষ্পের ঘনীভূত অংশ। যখন বাষ্প ঠাণ্ডা হয়ে জলকণায় পরিণত হয়, তখন সেগুলো মেঘের আকার ধারণ করে। আর সেই ঘনীভূত জলবিন্দুই মেঘের ওজন বৃদ্ধি করে।
ধারণ আবহাওয়ায় আকাশে সচরাচর আমরা তুলার মতো সাদা যে মেঘ দেখি, এর নাম কিউমুলাস মেঘ, কিউমুলাস অর্থ স্তূপ। এগুলোর নিচের অংশ সমতল আর উপরের দিকে ছোট ছোট মেঘখণ্ড স্তূপাকারে রয়েছে বলে মনে হয়। এ কারণেই এই মেঘের নাম দেওয়া হয়েছে কিউমুলাস। তবে কিউমুলাস মেঘে সাধারণত বৃষ্টি হয় না।
মেঘের ওজন জানতে হলে এর ঘনত্ব জানতে হবে। আর ঘনত্ব জানতে চাইলে প্রথমে মেঘের আকার বের করতে হবে। মেঘের আকার পরিমাপ করার একটি উপায় হলো সূর্য যখন মাথার ঠিক উপরে থাকে তখন একটি নির্দিষ্ট গতিতে তার ছায়ার উপর দিয়ে সোজা গাড়ি চালানো।
গবেষকরা বলছেন, কিউমুলাস মেঘের আকার সচরাচর এক কিলোমিটার হয়ে থাকে। একই সাথে এমন মেঘের উচ্চতাও এক কিলোমিটার এর কাছাকাছি হয়ে থাকে। সেই হিসেবে প্রতি ঘনমিটার কিউমুলাস মেঘে পানির ঘনত্ব থাকে ৫০০ মিলিগ্রাম। মেঘের ধরণভেদে পানির ঘনত্ব ভিন্ন হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসডিএস এর তথ্যমতে, কিউমুলাস মেঘের গড় ওজন সাড়ে ৪ লাখ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যদিকে বৃষ্টি বহনকারী কিউমুলোনিম্বাস মেঘের ঘনত্ব আরো বেশি হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, কিউমুলোনিম্বাস মেঘে পানির ঘনত্বের পরিমাণ প্রতি ঘনমিটারে ১ থেকে ৩ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক রিসার্চের গবেষকরা জানিয়েছেন, কিউমোলোনিম্বাস মেঘের আয়তন গড়ে ১০০ কোটি ঘনমিটার। অলিম্পিক গেমসের সুইমিং পুলগুলো যদি আড়াই হাজার ঘনমিটার হয়ে থাকে, তাহলে কিউমোলোনিম্বাস মেঘের ওজন ৪ লাখ সুইমিং পুলের সমান। কেজির হিসেবে ৫ লাখ কেজি আর পাউন্ডের হিসেবে ১১ লাখ পাউন্ড, যা প্রায় ১০০টি হাতির মোট ওজনের সমান।
আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে নাযিল হওয়া কোরআনে মেঘের ওজন সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য দিয়ে মহান আল্লাহ দুনিয়াবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন, কেয়ামত পর্যন্ত বিজ্ঞানের চর্চা করে প্রযুক্তি খাতে উন্নতির শীর্ষে আরোহণ করলেও কোরআনের দেয়া তথ্য কখনো ভুল প্রমাণ করা যাবে না।
সূত্র: https://www.youtube.com/watch?v=eIQicjbdU24
রাকিব