ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে

সীতাকুণ্ডে দশ হাজার নলকূপ অকেজো, খাবার পানির জন্য হাহাকার

সংবাদদাতা, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ০১:১১, ৬ এপ্রিল ২০২৫

সীতাকুণ্ডে দশ হাজার নলকূপ অকেজো, খাবার পানির জন্য হাহাকার

সীতাকুণ্ডে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে

জেলার সীতাকুণ্ডে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপে পানি উঠছে না। এতে পানি না ওঠার কারণে ব্যক্তিগত তিন হাজার নলকূপের পাশাপাশি অকেজো হয়ে আছে সরকারিভাবে স্থাপিত সাত হাজার নলকূপ। আর পানি সংকটের ফলে দিশাহারা অবস্থায় দিনযাপন করছেন উপজেলার তিন লাখ মানুষ। একদিকে নলকূপে পানি না ওঠা, অন্যদিকে পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক ও আয়রন থাকায় প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে সীতাকু-ের লোকজন।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকু- অংশের পূর্ব পাশে অপরিকল্পিতভাবে অসংখ্য শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এ সব শিল্পকারখানায় পানি ব্যবহার করা হচ্ছে ভূগর্ভ থেকে। ফলে, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ নলকূপে পানি উঠছে না। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, মুরাদপুর, বাড়বকু-, সৈয়দপুর ও সীতাকু- পৌরসভা এলাকায় সারাবছরই খাওয়ার পানির তীব্র সংকট থাকে।

পানির চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নলকূপ নেই। ২৫টির মতো পাতকুয়া থাকলেও সেখানেও পানি থাকে না। শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার সংকট তীব্র রূপ ধারণ করে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকার ৩২টি জেলে পল্লি, ৭টি আদিবাসী এলাকা, বাড়বকু- ও দারোগারহাট আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিবাসীরা সারাবছরই পানির সমস্যায় পড়তে হয়। 
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকু- উপজেলায় ব্যক্তিগত নলকূপের পাশাপাশি সরকারিভাবে দশ হাজার নলকূপ রয়েছে। অধিকাংশ নলকূপ পানির স্তর না থাকার কারণে অকেজো রয়েছে। চোররা নলকূপের ওপরের অংশ খুলে নিয়ে যাওয়ার কারণে বেশিরভাগ নলকূপের কোনো চিহ্ন নেই। মাঝে মধ্যে জনস্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা নলকূপ সচল করলেও মেরামতের কিছুদিন পর তা পুনরায় অচল হয়ে পড়ে। 
বাড়বকু- এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন, খুরশিদ আলম, জহিরুল ইসলাম ও আমির হোসেন বাদশাসহ কয়েকজন বলেন, কিছু বৃহৎ শিল্পকারখানার কারণে আমাদের এলাকার গভীর নলকূপসহ বাড়বকু- ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকার প্রায় শতাধিক টিউবওয়েলে পানি উঠছে না।  
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে খাল ও পুকুরের দূষিত পানি ব্যবহার করছে। বাড়বকু-ের ভায়েরখীল আশ্রয়ণ প্রকল্পের আবদুল কাদের বলেন, প্রকল্পের একমাত্র নলকূপটি অকেজো হওয়ার কারণে বাসিন্দারা প্রায় দেড় মাইল দূরে গিয়ে একটি পুকুর থেকে পানি আনতে হতো। কিন্তু মাছ ধরার নামে বিষ প্রয়োগ করে পুকুরের পানি দূষিত করায় সেই পুকুরের পানিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে।

উপজেলার পূর্ব সৈয়দপুর জেলেপাড়ায় মোহনলাল জলদাস বলেন, তীব্র খরায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় জেলেপাড়ার অধিকাংশ নলকূপে পানি উঠছে না। তীব্র খরায় পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে গোসলের পানিরও সংকটে পড়তে হচ্ছে। এতে অনেকটা বাধ্য হয়ে আমাদের ময়লা-আবর্জনা ভরা পুকুরের পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। যার ফলে, এখানকার লোকজন প্রতিনিয়ত পেটের পীড়াসহ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। 
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সালাউদ্দিন বলেন, উপকূলীয় এলাকার মানুষ পুকুর ও খালের পানি পান করে সারাবছরই পেটের পীড়ায় ভুগতে থাকে। দেখা যায়, হাসপাতালে আসা অধিকাংশ রোগী পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়া ও আমাশয়সহ নানান পেটের পীড়ায় আক্রান্ত।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন জানান, শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে সরকারি ও ব্যক্তিগত প্রায় ১০ হাজার নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ১৫০ থেকে ১৮০ ফুট পর্যন্ত পাইপ দিয়ে নলকূপ বসানো হলেও শুষ্ক মৌসুমে পানি ওঠে না। অকেজো নলকূপগুলো সহসাই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরো পড়ুন  

×