
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর দক্ষিনপাড়া ঈদগাহ ময়দানের জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট ঘটনার জের ধরে প্রতিপক্ষের মামলার দু’জন আসামীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মনোহরপুর গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ ও আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের বিএনপির সমর্থক নেতাকর্মীরা থানা চত্বরে জড়ো হয়ে থানা ঘেরাও করে। তাদের দাবী ছিলো গ্রেপ্তার করা আসামীদের মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত তারা থানা ছেড়ে যাবে না। এমতাবস্থায় বিপাকে পড়ে থানা পুলিশ। শেষ পর্যন্ত থানা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ময়েন উদ্দিনের হস্তক্ষেপে এবং পুলিশ প্রতিপক্ষের দু’জনকে গ্রেপ্তার করলে গ্রামবাসী শনিবার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে গ্রামে ফিরে চলে যায়। ফলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। দু’পক্ষের মামলায় ৪ জনকে রবিবার (৬ এপ্রিল) আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর দক্ষিণপাড়ার ঈদগাহের জমি সম্প্রতি মাপজোক শেষে ঈদগাহ কতৃপক্ষ প্রাচীর নির্মাণ করার সময় প্রতিপক্ষদের বাঁধার মুখে প্রাচীর নির্মাণ কাজ বাঁধাগ্রস্থ হয়। ঘটনার সময় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন সাবেক মেম্বার জাফিরুল ইসলাম,বর্তমান মেম্বার তুহিন এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জাফিরুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের শাহজান আলীরাও আদালতে মামলা করে। আদালত মামলাটি আমলে নেয়ার আদেশ দেয়। থানা পুলিশ আদালতের আদেশে মামলা রুজু করে এবং আসামী স্বপন হোসেন এবং নাসির নামে দু’জনকে শনিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পর ঈদগাহ কমিটির পক্ষে মনোহরপুর গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ-যুবক-কিশোর পাশাপাশি আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা থানা চত্বরে জড়ো হয় এবং ঘেরাও করে রাখে। তারা দাবী করে স্বপন ও নাসির নিরাপরাধ মানুষ তাদের গ্রেপ্তার অন্যায় হয়েছে। কিন্তু পুলিশের দাবী তারা আদালতের আদেশে আসামী গ্রেপ্তার করেছে। ফলে থানা থেকে মুক্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। এতে উত্তেজিত হয়ে পড়ে গ্রামবাসী ও বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঈদগাহ কমিটির দায়ের করা মামলায় নজরুল ইসলাম ডাকু ও রকিবুল নামের দু’জন গ্রেপ্তার করে রাত ১০ টার দিকে থানা নিয়ে আসে। এদিন পরে রাত ১১ টার দিকে গ্রামবাসী পুলিশের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে তারা গ্রামে ফিরে যায়।
মনোহরপুর দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ কমিটির পক্ষে মামলার বাদী জাফিরুল ইসলাম বলেন,শাহজান আলীর নেতৃত্বে তাদের লোকজন অন্যায় ভাবে ঈদগাহের প্রাচীর নির্মাণ কাজে বাঁধা প্রদান করে এবং লোকজনকে মারপিট করে জখম করে। আবার আমাদের লোকজনের নামে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করছে।
জীবননগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শহিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ঘটনার ব্যাপারে থানায় দু’টি মামলা করা হয়েছে। উভয়পক্ষের মামলায় দু’জন করে মোট ৪জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ এলাকায় আইন- শৃঙ্খলা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। নিয়ম অনুযায়ী আসামী গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পরিস্থিতি বর্তমানে পুরোপুরি শান্ত আছে বলে তিনি জানান।
রাজু