ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

মতবিনিময়ে খাদ্য উপদেষ্টা

কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ

প্রকাশিত: ০০:৪০, ৬ এপ্রিল ২০২৫

কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার

খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হাওড়ে বোরো ধানের ফলন পরিদর্শন করেন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, হাওড়াঞ্চলসহ সারাদেশে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে খাদ্যে উদ্বৃত্ত হবে দেশ। আর কৃষক যেন ফসলের ন্যায্য মূল্য পায়, তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় তিনি সরকারের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে উল্লেখ করে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি শনিবার দুপুরে জেলার হাওড় অধ্যুষিত উপজেলা অষ্টগ্রামে জিরাতি কৃষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষক ও জিরাতিরা হলো  উন্নয়নের প্রথম সারির সৈনিক। তারা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তারা যে ফসল ফলায়, তা দিয়ে আমাদের বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্যের জোগান হয়। হাওড়ের সেচ সমস্যা, মাছ ধরার অজুহাতে অবৈধভাবে খালবিল শুকিয়ে ফেলার প্রবণতা রোধ, সার ও বীজের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, ফসল সংরক্ষণ ও এগুলোর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় বেশ কয়েকজন জিরাতি তাদের সেচ সমস্যা, রাস্তাঘাটের সংকট, খাবার পানির অভাব নিয়ে উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বললে তিনি উপস্থিত জেলা প্রশাসককে এগুলো দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। তিনি উপদেষ্টা হাওড়ের বিভিন্ন বোরো জমি ঘুরে দেখেন।
জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খানের সভাপতিত্বে কৃষক সমাবেশে অন্যদের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, অষ্টগ্রামের কৃষি কর্মকর্তা অভিজিত সরকারসহ অন্যরা বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান। এ সময় বিভিন্ন উপজেলার কয়েকশ’ কৃষকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 
খালবিল-নদনদী শুকিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মেঘনাসহ বড়বড় নদীগুলো আজ নাব্য সংকটে ভুগছে। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে খাল খনন করা সম্ভব। আর বড় নদনদীগুলো খনন করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হাওড় এলাকায় এখন কৃষকরা ধানের পাশাপাশি ভুট্টা, সবজি, হাঁস-মুরগি পালন, মাছ চাষসহ নানাবিধ অর্থনৈতিক কর্মকা-ে জড়িত। কাজেই হাওড় বিপুল সম্ভাবনাময় এক জনপদ। এ জন্য সরকার হাওড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে কাজ করছে।

×