
তীব্র খরা আর অনাবৃষ্টির কারণে চা বাগানে পুড়ে যাচ্ছে চা পাতা
তীব্র খরা আর অনাবৃষ্টির কারণে চা বাগানে পুড়ে যাচ্ছে চা পাতা। দীর্ঘদিন যাবৎ বৃষ্টি না হওয়ায় চা গাছে মশা ও পোকা-মাকড় বাসা বাঁধছে। গাছগুলো রোদে পুড়ে মরে যাচ্ছে। এতে করে লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন চা বাগানের মালিকপক্ষ। বাগানের এমন করুণ দশায় শ্রমিকরাও হতাশ হয়ে পড়েছেন। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বাহুবল, মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় ফাঁড়িসহ ৪১টি চা বাগান রয়েছে।
এসব বাগানের বাসিন্দা প্রায় দুই লাখ। এরমধ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে প্রায় ৩২ হাজার শ্রমিক চা পাতা উত্তোলনে জড়িত। বাগানে কাজ না পেয়ে বাকিদের জীবিকার জন্য বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে হচ্ছে। চা বাগানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭০ টাকা। বছরের মার্চ থেকে চা পাতার উৎপাদন শুরু হয়। চলে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। এখানে নতুন কুঁড়ি না আসায় গত বছরের এই সময়ের তুলনায় চলতি বছর চায়ের উৎপাদন কমেছে প্রায় ৮০ শতাংশের মতো।
অপরদিকে ভরা মৌসুমে গাছে নতুন কুঁড়ি না থাকায় কমে গেছে শ্রমিকের কাজ। তবুও শ্রমিকরা পাহাড়ের নিচু এলাকা থেকে কলসি দিয়ে পানি এনে গাছে নতুন কুঁড়ি গজানোর চেষ্টা করছেন। চোখে-মুখে স্বপ্ন নিয়ে অধীর আগ্রহে বসে আছে বৃষ্টি আর নতুন কুঁড়ির আশায়।
চলতি বছরে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এখনো চা বাগানে চা পাতার কুঁড়ি বের হচ্ছে না। তীব্র রোদের কারণে চা বাগানে আশঙ্কাজনক হারে চা পাতার উৎপাদন কমেছে। প্রতিটি চা বাগানের ভেতরে থাকা ছোট-বড় লেক ও ছড়াগুলো শুকিয়ে গেছে। যে কারণে চা বাগানগুলোতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, জেলায় মোট ৪১টি চা বাগানের আয়তন ১৫,৭০৩,২৪ হেক্টর। প্রতিহেক্টর জমিতে ২০শ’ থেকে ২৫শ’ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়। প্রতিবছর মার্চ মাস থেকে শুরু হয় চা পাতা উত্তোলন।
সরেজমিনে দেখা যায়- বাগানে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানি উঠছে না। পানির জন্য অনেক শ্রমিক দূর-দূরান্ত থেকে পানি এনে খাবার খাচ্ছেন। এমনকি গোসল করতে তাদের যেতে হচ্ছে দূরের বস্তিতে। বাংলো ও স্টাফ কোয়ার্টারগুলোতেও নেই পানি।
চুনারুঘাটে দেউন্দি চা বাগানের নারী চা শ্রমিক রঞ্জনা মাল বলেন- প্রতিবছর মার্চ মাস এলে আমরা দিনভর চা পাতার কুঁড়ি উত্তোলন করি কিন্তু এ বছর বৃষ্টি না হওয়াতে চা পাতার কুঁড়ি বের হচ্ছে না। যার কারণে আমাদের কাজ ও মজুরি কমে গেছে। আমরা গোসল ও খাওয়ার পানি পাচ্ছি না। বাগানে নতুন কুঁড়ি না থাকায় আমাদের কাজ-কর্ম কমে গেছে। চা পাতা না তুললে বাগান কর্তৃপক্ষও মজুরি দেবে না।
মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানের পার্বতী বাউরী বলেন- বাগানে কাজ করেই আমাদের সংসার চলে। আবার কেউ বাগানে কাজ না করে বাইরে বস্তি ও শহরে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু চা গাছে পাতা না এলে আমাদের কপালে দুঃখ আছে।
চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা বাগানের ডেপুটি সহকারী ম্যানেজার দেবাশীষ রায় জানান- আমাদের দেউন্দি টি কোম্পানিসহ জেলার প্রতিটি চা বাগানে অনাবৃষ্টির কারণে চা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতি হচ্ছে। মার্চ মাস চায়ের ভরা মৌসুম। এমন অবস্থা চলতে থাকলে দিনদিন আমাদের লোকসানের পাল্লা ভারি হবে।
মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সোহাগ আহমেদ বলেন- গত ২০২৪ সালে তীব্র খরা ও শ্রমিক অসন্তোষসহ নানা কারণে বাগানগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চা পাতা উৎপাদন কম হয়। চলতি বছর বৃষ্টি না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বিশাল বাগান কৃত্রিম পানি দিয়ে পোষানো সম্ভব নয়।