ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

স্ত্রীর সামনে ডাকাতের হাতে প্রাণ গেল প্রবাসীর

আবিদুর রহমান নিপু, ফরিদপুর

প্রকাশিত: ০০:১৭, ৬ এপ্রিল ২০২৫

স্ত্রীর সামনে ডাকাতের হাতে প্রাণ গেল প্রবাসীর

ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৮ বছর প্রবাস জীবন অতিবাহিত করে দেশে ফিরে আসেন জামাল। মাস খানেক হলো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস বিয়ের একমাস পার না হতেই স্ত্রীর চোখের সামনে নির্মম ভাবে খুন হতে হলো তাকে। 

ঘটনা সূত্রে জানাযায়,শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ফরিদপুরের তালমা ইউনিয়নের কোণাগ্রামে ডাকাতের অস্ত্রের আঘাতে মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। 

নিহত পঞ্চান্ন বছর বয়সী জামালের জীবন কখনোই সুখের ছিল না। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনির গুলিতে তার পিতা হাতেম আলী খুন হয়। তখন জামাল মায়ের গর্ভে। পরবর্তীতে সংসারের হাল ধরতে সৌদি আরব পাড়ি জমান তিনি। প্রবাস জীবন শেষ করে রোজার আগে দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিনের উপার্জিত অর্থই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল জামালের। স্পর্শকাতর স্থানে ডাকাতদের সজোরে আঘাতে স্তমিত হয়ে যায় জামালের জীবনের বাতি। এখন জামালের পরিবারের বাতি জ্বালানোর কেউ রইল না। 

জামালের বৃদ্ধ মা জানান, আমি বাড়িতে ছিলাম না। জামাল স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ছিল। সকালে খবর পেলাম ডাকাতেরা আমার ছেলেকে মেরে স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়সা নিয়ে গেছে।

জামালের খালাতো বোন সাথী বেগম বলেন, জামালের  অন্ডকোষে আঘাত করে ডাকাতদলের সদস্যরা ঘরে থাকা নগদ  টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা এসে জামালকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভোর ৪ টার দিকে কর্মরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-নগরকান্দা) মো. আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গভীররাতে জামালের ঘরে দুই জন চোর বা ডাকাত ঢুকে তার অন্ডকোষে আঘাত করে হত্যা করে। তাকে হত্যার সময় ঘরে বাহিরে আরো লোকও থাকতে পারে। ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা গুরুত্ব দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত করছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো।

মারিয়া

×