ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

হাসিনার পতনে সৌদিতে উল্লাস করায় ৮ মাস বন্দী ছিলেন শাকির, দিলেন সেই জেলের বর্ণনা

প্রকাশিত: ২২:২৬, ৫ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ২২:২৭, ৫ এপ্রিল ২০২৫

হাসিনার পতনে সৌদিতে উল্লাস করায় ৮ মাস বন্দী ছিলেন শাকির, দিলেন সেই জেলের বর্ণনা

ছবি: সংগৃহীত।

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসী শাকির সম্প্রতি তার বন্দিত্বের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরপরই ঘটে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের আনন্দে কয়েকজন প্রবাসী মিলে ছোট পরিসরে খাওয়ার আয়োজন করেছিলেন, যেখানে কোনো রাজনৈতিক স্লোগান বা সহিংস কর্মকাণ্ড ছিল না। শুধুমাত্র সেই আনন্দের অংশ হওয়াটাই যেন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য।

শাকির জানান, আনন্দ উদযাপনকালে এক ব্যক্তি তাকে চিনে ফেলেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে পরিচয় দেন। এরপর শাকিরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। কোনো ধরনের অপরাধপ্রমাণ ছাড়াই তাকে রাত ৩টার দিকে থানার হাজতে নেওয়া হয়। পরদিন শুক্রবার ছিল, ফলে তাকে ‘নিয়াবা’ নামক সৌদি আদালত সমতুল্য একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রশ্নোত্তর শেষে তাকে সিআইডি জেলে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি ১৩ দিন আটক ছিলেন।

এরপর তাকে পাঠানো হয় ‘সফর জেল’-এ, যা দীর্ঘ মেয়াদি বন্দিদের রাখা হয় এমন একটি কারাগার। সেখানে শাকিরসহ অন্যান্যদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয় এবং জানা যায় তাদের কাগজপত্র বৈধ, কোনো মামলা নেই। কিন্তু শুধুমাত্র অভিযোগে লেখা ছিল—“লোকজন একত্র করেছে”, যা কার্যত একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

সফর জেলে শাকির মোট ৭২ দিন বন্দি ছিলেন। তিনি জানান, জেলের খাবার মোটামুটি ছিল (সকালে স্যান্ডউইচ ও চা, দুপুর-রাতে মুরগির বিরিয়ানি জাতীয় খাবার), কিন্তু সমস্যা ছিল ছোট্ট ঘরে গাদাগাদি করে থাকা এবং চলাফেরা করতে না পারা। তার ভাষায়, “একটা ছোট রুমে ৭২ দিন থাকা, এটা আসলেই মানসিক নির্যাতন।”

জেলের ভেতরে নতুন জুতা পরা এক ব্যক্তি সম্পর্কে একটি অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার কথাও বলেন তিনি। পুলিশ তার জুতা খুলে নেয় এবং তাকে খালি পায়ে থাকতে হয়।

শাকির জানান, জেলে ঢোকার সময় তাদের সব কাপড় খুলে নেয়া হয়। এরপর জেল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত পোশাক—একটি সাধারণ পায়জামা ও টি-শার্ট—পরতে দেওয়া হয়। সেই পোশাকেই তারা দেড় মাস ছিলেন।

মুক্তির আগে, ঈদের প্রায় তিন-চার দিন আগে আবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয় এবং তাদের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের পর নিশ্চিত করা হয় যে কাগজপত্র এসে গেছে। এরপরও অনিশ্চয়তা থেকেই যায়—কবে পাঠানো হবে, কীভাবে, কেউ জানত না।

শাকির শেষদিকে বলেন, তিনি সৌদি আরবে যে সময়টা ব্যয় করেছেন, সেই সময়, শ্রম এবং অর্থ সবই এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে। দেশে ফিরে কোনো সমর্থন বা সহানুভূতি পাবে কিনা, তা নিয়েও তার সংশয় রয়েছে।

"সরকার যদি আমাদের প্রতি একটু সুদৃষ্টি দেয়, একটু সহানুভূতিশীল হয়, তাহলে হয়তো এই কষ্টের কিছু মূল্য থাকবে,"—এমন আশায় কথা শেষ করেন শাকির।

নুসরাত

×