ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

কিশোরগঞ্জে খড়ের বিনিময়ে ধান কাটা উৎসব

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:০১, ৫ এপ্রিল ২০২৫

কিশোরগঞ্জে খড়ের বিনিময়ে ধান কাটা উৎসব

খড়ের বিনিময়ে হোসেনপুরের পানান বিলের বোরো জমির ধান কাটা ও মাড়াই করে দিচ্ছেন অন্য কৃষকরা

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আগামী কিছুদিনের মধ্যে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হবে। এখনো পুরোদমে ধান কাটা শুরু না হওয়ায় বাজারে এখন খড় পাওয়া কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সচ্ছল কৃষক নিজেদের ধানি জমি থাকা সত্ত্বেও বাড়িতে থাকা কেবল গরুর খাবারের জন্য খড়ের বিনিময়ে অন্যের ধান কেটে দিচ্ছেন। কেননা তাদের জমির ধান পাকতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।

এজন্য নিজেরা শ্রমিক না হলেও খড়ের বিনিময়ে ধান কাটা উৎসবে যোগ দিয়েছেন তারা। এভাবে প্রতি বছর যাদের ধান আগেভাগে পেকে যায়, অন্য কৃষকেরা খড়ের বিনিময়ে তাদের জমির ধান কেটে দেন। হোসেনপুরের পানান বিলে প্রায় একশ’ শতাংশ জমিতে ধান লাগিয়েছিলেন মধ্য লাখুহাটির কৃষক হারিছ মিয়া। তার জমির ধান একটু আগেভাগেই পেকে গেছে।

তিনি জমির ধান কাটার ঘোষণা দিতেই কৃষক রইছ মিয়াসহ আশপাশের যেসব কৃষকের গরু আছে, তারা দল বেঁধে খড়ের বিনিময়ে ধান কাটতে জমিতে ভিড় করেন। সরেজমিনে গেলে কৃষকেরা জানান, খড়ের বিনিময়ে ধান কাটার বিষয়টা তাদের কাছে উৎসবের মতো লাগে। এই পানান বিলে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে ধান কাটা। চলবে আগামী দুই থেকে তিনদিন। এই বিলে ২০ থেকে ২৫ জন কৃষকের কয়েক একর জমির ধান আগেভাগে পেকে গেছে। কয়েক বছর ধরে এসব ধান এভাবে খড়ের বিনিময়ে কাটার প্রথা চলে আসছে।
জমির মালিক হারিছ মিয়া জানান, তার একশ’ শতাংশ জমির ধান অন্যদের তুলনায় একটু আগেভাগে পেকে গেছে। ধান কাটার কথা জানাজানির পর এলাকার ৩০ থেকে ৪০ জন খড়ের বিনিময়ে ধান কেটে মাড়াই করে দিয়েছেন। এতে তার প্রায় ১০ হাজার টাকা শ্রমিকের খরচ বেঁচে গেছে। অন্যদিকে যেসব কৃষকের জমির ধান কাটতে এখনো ১০-১৫ দিন বাকি, তারাও গরুকে খাওয়ানোর খড় পেলেন। এতে তার কিছু খড় হারালেও কয়েকদিন পর অন্য জমির ধান কাটলে সেটা পূরণ হয়ে যাবে। 
কৃষক আফছর মিয়া জানান, তার তিনটি গরু আছে। বাড়িতে গরুর খাবারের খড় শেষ হয়ে গেছে। নিজের জমির ধান কাটতে এখনো দুই সপ্তাহ লাগবে। এমন অবস্থায় তিনিও অন্যদের সঙ্গে খড়ের জন্য হারিছ মিয়ার জমির ধান কাটতে এসেছেন। 
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকেরা ইতোমধ্যে টুকটাক ধান কাটা শুরু করেছেন। অনেক জায়গায় খড় উৎসবও চলছে। সপ্তাহ দুয়েক পর পুরোদমে ধান মাড়াই শুরু হবে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবার ধানের বাম্পার ফলন পাবেন কৃষকেরা।

×