
ছবি: জনকণ্ঠ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরী ভাষাকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাঁচিয়ে রাখা ও বিকশিত করার প্রয়াস হিসেবে বিগত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশ মণিপুরি সাহিত্য সংসদ মণিপুরী ভাষা ও সংস্কৃতি উৎসব পালন করে আসছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) মণিপুরী সাহিত্য সংসদের আয়োজনে উপজেলার আদমপুর তেতইগাঁও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে মণিপুরী ভাষা ও সংস্কৃতি উৎসব পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে মণিপুরী ভাষা ও সংস্কৃতি উৎসব- ২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর পর উপস্থিত মৈতৈ মণিপুরী ও মুসলিম মণিপুরী(পাঙাল)শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অংশ গ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। পরে তেতইগাঁও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
দুপুরে মৈতৈ মণিপুরী মাতৃভাষার বর্ণমালায় শতাধিক মৈতৈ মণিপুরী ও মুসলিম মণিপুরী শিক্ষার্থীরা মেধা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।বিকাল ৩টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে মণিপুরী ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা, প্রসার বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ মণিপুরি সাহিত্য সংসদ কমলগঞ্জ শাখার সভাপতি ইবুংহাল শ্যামল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডি.এম সাদিক আল শাফিন।
মণিপুরি ভাষা ও সংস্কৃতি উৎসবে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ সিলেট এর সভাপতি লেখক ও কবি এ কে শেরাম।
বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ (বামসাস) সাধারণ সম্পাদক নামব্রম শংকর এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অয়েকপম অঞ্জুর যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি,সম্পাদক 'ভাস্কর' ও সুনামগঞ্জের মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পুলিন রায়, তেতইগাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিস বেগম, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহবায়ক এম এ ওয়াহিদ রুলু, প্রধান শিক্ষক ও কবি, লেখক সাজ্জাদুল হক স্বপন, কবি রওশন আরা বাঁশি, কামাল উদ্দীন প্রমুখ।
উল্লেখ্য,বাংলাদেশ মণিপুরী সাহিত্য সংসদ ২০০৮ সাল থেকে মণিপুরী ভাষা ও সংস্কৃতি উৎসব পালন করে আসছে।এবারের উৎসবে বিভিন্ন শ্রেণির মণিপুরী শিক্ষার্থীরা নিজেদের বর্ণমালা ব্যবহার করে মেধা পরীক্ষায় অংশ নেয়, পরীক্ষা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
শহীদ