
ঈদের ছুটি শেষে মানুষ ফিরতে শুরু করেছে নিজ-নিজ কর্মস্থল। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও পাবনার কাজিরহাট থেকে ফেরি-লঞ্চ, স্পিটবোটসহ ইঞ্জিন চালিত বোটে পদ্মা-যমুনা পাড়ি দিয়ে আসছেন মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং আরিচা ঘাটে। এ দু নৌপথ পাড়ি দিয়ে আসা যাত্রীরা বিভিন্ন পন্থায় ছুটছেন রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায়। এতে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে বেড়েছে ঢাকামুখী মানুষের বাড়তি চাপ।
শনিবার আরিচা ও পাটুরিয়া লঞ্চ-ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য মানুষ দৌলতদিয়া এবং কাজিরহাট ঘাট হয়ে ফেরি-লঞ্চসহ বিভিন্ন নৌযানে নদী পারি দিয়ে ভিড় জমাচ্ছে এ পাড়ের বাস টার্মিনালে। এতে উভয় ঘাট এলাকায় কর্মস্থলগামী মানুষ ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে।ঘাট এলাকাসহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রী নিরাপত্তাসহ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশ। নৌযানে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রীবহন ও মহাসড়কে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে মোবাইল কোর্টে গুনতে হয়েছে চালকদের জড়িমানার অর্থ।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন ও মানিকগঞ্জ বিআরটিএ পরিচালক মাহবুবুর রহমান পৃথক মোবাইল কোর্টে এ জড়িমানা আদায় করেন।আজ দুপুরে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে যাত্রীবোঝাই করে ছেড়ে আসে এমভি অনিকা ও এমভি মোস্তফা নামক দুটি লঞ্চ। এ সময় এ লঞ্চ দুটিতে দেখা যায় গাদাগাদি যাত্রী। লঞ্চ থেকে নামার পর মালামাল নিয়ে যাত্রীরা বাস টার্মিনালের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। পরে বাসে উঠে কর্মস্থলের দিকে রওনা হন তাঁরা।
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন কুষ্টিয়ার আবুল হোসেন। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে গিয়েছিলেন তিনি। কর্মস্থলে যেতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আজ দুপুরে এমভি মোস্তফা নামের লঞ্চে করে নদী পারাপার হয়ে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটে আসেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষ। কাল অফিস খোলা। তাই কাজে যোগ দিতে কর্মস্থল এলাকার বাসায় ফিরছি।
পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের সুপারভাইজার পান্নালাল বলেন, ঈদ শেষে লঞ্চে কর্মস্থলগামী যাত্রীদের চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে প্রতিটি লঞ্চে নির্ধারিতসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ২০টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। অনুরুপ আরিচা-কাজিরহাট রুটে চলছে আরো ১৩ টি লঞ্চ।
এদিকে, দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে পাটুরিয়ার ৪ নম্বর ঘাটে ভিড়ে কে-টাইপ ফেরি ফরিদপুর। ফেরিটিতে দূরপাল্লার বাসসহ মোটরসাইকেলের পাশাপাশি যাত্রীরা গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থেকে নদী পার হন।
এ ফেরির যাত্রী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ফরিদপুরে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন। ঈদের ছুটি শেষে এখন তিনি ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের সহকারী উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাম হোসেন বলেন, ঈদের ছুটি শেষে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা ফেরিতে নদী পারাপার হচ্ছেন।
রাজু