
ছবি সংগৃহীত
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সালিশ বৈঠকে ধার্য জরিমানার টাকা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপি ঘরানার অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং তিনটি বসতবাড়ি ও তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ উভয় পক্ষের ৯ জনকে আটক করেছে।
এই ঘটনা শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত ও শনিবার (৫ এপ্রিল) সকাল দুই দফায় উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া গ্রামে ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আমীর আলী হাওলাদারের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমের একটি মুরগি প্রতিবেশী আবুল বাশার ও আবুল হোসেনের ধানের ক্ষেতে ঢুকে পড়ে। এরপর শুরু হয় কথা কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনা। এ ঘটনায় হোসনেয়ারাকে গুরুতর আহত করা হয়।
বিষয়টি মীমাংসায় গত সপ্তাহে সালিশ বৈঠকে বসেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ওহাব সরদার ও সাবেক সহ-সভাপতি এস এ সিদ্দিক। সালিশে আবুল বাশার ও আবুল হোসেনকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
শুক্রবার রাতে ওই দুই ব্যক্তি ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে গেলে ওহাব সরদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দফায় সংঘর্ষে ৭ জন আহত হন।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে উত্তেজনা ফের চরমে ওঠে। ওহাব সরদার ও এস এ সিদ্দিকের সমর্থকরা প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালায়। এতে মোতালেব মীর, শুকুর মীর ও মোস্তাফা শেখের বসতবাড়ি ভাঙচুর হয়। একইসঙ্গে এনামুল মীরের দোকান, রফিকের সমিতির অফিস এবং আল মামুনের বেকারি কারখানাও ধ্বংসসাধন করা হয়।
হামলায় মহিলাসহ আরও ৪ জন আহত হন। আহতদের চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফা শেখ বলেন, “ওহাব সরদার ও এস এ সিদ্দিক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”
ওদিকে ওহাব সরদার দাবি করেন, “একটি মুরগির কারণে আমাদের লোককে মারধর করেছে। আমরা চিকিৎসার জন্য ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করি, ওরা মাত্র ৪০ হাজার টাকা দেয়। তখন সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।”
চিতলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোমিনুল হক টুলু বিশ্বাস বলেন, “এটা দলীয় কোনো বিষয় নয়, বরং একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।”
চিতলমারী থানার ওসি এস এম শাহাদাৎ হোসেন জানান, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা উভয় পক্ষের ৯ জনকে আটক করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আশিক