ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

ফরিদপুরে পৃথক স্থান থেকে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর

প্রকাশিত: ১৮:৪০, ৫ এপ্রিল ২০২৫

ফরিদপুরে পৃথক স্থান থেকে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গার মানিকদহ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা গ্রাম থেকে লিমা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূ ও চুমুরদী ইউনিয়নের চুমুরদী গ্রাম থেকে মামুন মাতুব্বর (১৭) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গৃহবধূ ও সকাল ৯টার দিকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মানিকদহ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামের সিকান্দার মাতুব্বরের চারতলা একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন গৃহবধূ লিমা আক্তার (২১)। তিনি সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের মেছেরডাঙ্গী গ্রামের মুকুল খানের মেয়ে ও একই ইউনিয়নের জমাদ্দারডাঙ্গী গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবু মৃধার স্ত্রী। তিন বছর আগে প্রেম করে আবু মৃধা বিয়ে করেন লিমা আক্তারকে। গত ৫ মাস আগে আবু মৃধা ও লিমা ভাঙ্গায় এসে বাসা ভাড়া নেয়। তখন আবু মৃধা সৌদি থেকে দেশে ছুটিতে এসেছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসে আবু মৃধা পুনরায় সৌদি আরবে চলে যান। এরপর থেকে লিমা একা বাসায় থাকতেন। আবু মৃধার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে সৌদি থেকে স্বামী আবু মৃধা স্ত্রী লিমাকে বারবার মোবাইল ফোনে কল দেন। কিন্তু লিমা ফোন রিসিভ না করায় বিষয়টি তিনি লিমার ছোট ভাই রোমানকে জানান। এরপর রোমান সদরপুর থেকে ভাঙ্গায় বোনের বাসায় আসেন। বোন লিমাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি রোমান। এরপর বিষয়টি বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক আজিজুল মৃধাকে (৪৭) জানান। তিনি ভাঙ্গা থানায় বিষয়টি জানান। এরপর ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্লাটের দুটি দরজা ভেঙে বেলকনির গ্রিলের সঙ্গে কালো ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় লিমার মরদেহ উদ্ধার করে।

অপরদিকে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী গ্রামের কৃষক মাজেদ মাতুব্বরের ছেলে মামুন মাতুব্বরের (১৭) মরদেহ বাড়ির পাশের আম গাছের ডালে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে বাড়ির লোকজন ভাঙ্গা থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ শনিবার সকাল ৯টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। মামুন মাতুব্বর ঢাকায় একটি মোবাইলের দোকানের কর্মচারী। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। রাত ১২টায়ও বাড়ি না ফেরায় বাবা মাজেদ মাতুব্বর ছেলে মামুন মাতুব্বরকে ফোন দেন। এ সময় তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে প্রতিবেশী এক লোক ঝুলন্ত অবস্থায় মামুনের মরদেহ দেখতে পেয়ে মামুনের বাবাকে খবর দেন। এরপর ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মামুনের বোন সুলতানা আক্তার অভিযোগ করেছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমার ভাইকে প্রতিপক্ষ ডেকে নিয়ে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে।

ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক লোকমান হোসেন বলেন, পৃথক স্থান থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় দুটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। 

আসিফ

×