ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

বাউফলে ঈদ পরবর্তী বিয়ের হিড়িক

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, পটুয়াখালী 

প্রকাশিত: ১৮:০৪, ৫ এপ্রিল ২০২৫

বাউফলে ঈদ পরবর্তী বিয়ের হিড়িক

ছবি: জনকণ্ঠ

ঈদ পরবর্তী বাউফলের পৌর শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বিয়ের হিড়িক পরেছে।  পহেলা এপ্রিল থেকে  পাঁচ এপ্রিল পর্যন্ত  পাঁচ দিনে  দুইশ উপরে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পরের দিন থেকে বাউফল পৌর শহরের শের-ই-বাংলা সড়ক, গার্লস স্কুল সড়ক, কাগুজিপুল এলাকায় ২৫টি বিয়ে সম্পন হয়েছে। এছাড়াও বাউফল সদর, দাশপাড়া, কালাইয়া, নাজিরপুর, চন্দ্রদ্বিপ, বগা, কাছিপাড়া, কালিশুরী, কেশবপুর, ধুলিয়, আদাবাড়িয়া, মদনপুর, সূর্যমনি, নওমালা ও কনকদিয়া   ইউনিয়নে প্রায় ২শ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। আর এসব বিয়ের অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এক একজনে একাধিক দাওয়াত পেয়েছেন।

দাশপাড়া ইউনিয়নের এক সাবেক জনপ্রতিনিধি জানান, এপর্যন্ত তিনি ১১টি বিয়ের দাওয়াত পেয়েছেন। ক্ষেত্র বিশেষ ১-২  হাজার টাকার করে উপহার (আঞ্চলিক ভাষায় নজর) দিতে হয়েছে। বিশেষ কিছু দাওয়াতে আরও বেশি টাকা দিতে হয়েছে। তার হিসেবে এসব বিয়ের অনুষ্ঠানে ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন।

কালাইয়া বন্দরের এক বাসিন্দা  বলেন, এখন  চৈত্র সংক্রান্তি । বিভিন্ন দোকানে টাকা পাবে। বৈশাখে হালখাতা করতে হবে। তার মধ্যে ৩ টি বিয়ে দাওয়াত পেয়ে তিনি বিভ্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। ইতিমধ্যে দুইটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ২হাজার টাকা উপহার দিয়েছেন। এখনও ১টি বিয়ের অনুষ্ঠান বাকি আছে। এ বিয়ের অনুষ্ঠানটি এক নিকট আত্মীয়ের মেয়ের। এখানে কম হলেও তাকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। 

জনপ্রতিনিধি ও ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা গেছে, একাধিক বিয়ের দাওয়াত পেয়েছেন এমন লোকের সংখ্যাও হাজারের উপরে। ঈদে সাধারণত ছুটি বেশি থাকে। এবার ঈদে টানা ৯দিন সরকারী ছুটি পেয়ে অনেকে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিয়ে করেছেন।  আগে গ্রাম গঞ্জে বিয়ে অনুষ্ঠানে মাইক বাজানো হলেও এখন মাইকের রেওয়াজ উঠে গেছে। তার পরিবর্তে বিশাল সাউন্ড বক্সে গান বাজানো হয়। আগে বিয়ে বাড়ির রাস্তার সামনে কলাগাছের গেট, রঙ্গিন কাগজ কেটে সুতায় বেঁধে বিয়ে বাড়ি পর্যন্ত দুই পাশে টানানো হতো। এখন আর তা চোখে পড়েনা।

এখন বিশাল আকৃতির নানা রংয়ের ও ডিজাইনের কাপরের গেট নির্মাণ করা হয়। আলোকসজ্জা করা হয়। সময়ের সাথে সাথে মানুষের চাহিদা ও রুচিরও পরিবর্তন হয়েছে। পালকির পরিবর্তে এখন গাড়ির বহর কনের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা হয়। আবার ঘোড়ায় চড়েও বড় আসেন কনের বাড়িতে। এই আধুনিক যুগে বিয়ের অনুষ্ঠানে নতুনত্ব দেখা গেলেও সেই কালের আর একালের বিয়ের অনুষ্ঠানে একটি বিষয়ে পরিবর্তন হয়নি। সেটা হলো, সেই কালেও বরকে কনের বাড়ির গেটে টাকা দিয়ে ভিতরে যেতে হতো।  একালেও বরকে কনের বাড়ির গেটে টাকা দিয়ে ভিতরে যেতে হয়।
 

শহীদ

×