
ছবি: সংগৃহীত
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতেও বাগেরহাট জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন মা ও শিশু কল্যাণ সেবা কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক জরুরী স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত ছিল। ঈদের দিনেও হয়েছে নরমাল ডেলিভারি। গর্ভবতী মায়েদের সকল প্রকার স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। ছুটিকালীন সময়ে চিকিৎক সংকটসহ নানা কারণে যখন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবা কার্যক্রম শিথিল ছিল, এমনকি বেসরকারী ক্লিনিক গুলোও যথাযথ কার্যক্রম চালু ছিল না, তখনও মা ও শিশু কল্যাণ সেবা কেন্দ্রগুলোতে বিনামূল্যে গর্ভকালীন সেবা, প্রসব সেবা, প্রসব পরবর্তী সেবা, শিশু সেবা, কৈশোর কালীন কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সেবাসহ জরুরী স্বাস্থ্য সেবা গ্রহনের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে সেবা গ্রহীতাদের ভরসার স্থল হয়ে ওঠে এ কেন্দ্রটি। সংকটকালে এমন জরুরী সেবা পেয়ে সেবা গ্রহীতারা সন্তোষ প্রকাশ করছেন।
বাগেরহাট মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের কর্মকর্তা (অতি: দায়িত্বে) এমও ব্রতা মুখার্জী জানান, গত ২৮ মার্চ থেকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে জরুরী সেবা প্রদান অব্যাহত রাখা হয়। পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যে ৮ জন মায়ের নরমাল ডেলিভারিসহ অর্ধ-শতাধিক মা ও শিশুকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। এমনকি পবিত্র ঈদের দিনেও ডেলিভারি করা হয়।’
বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সোনাখালী গ্রামের নিশি আক্তারের(২৫) নরমাল ডেলিভারি হয় ঈদের দিন সকাল সাড়ে দশটার দিকে। তাঁর স্বজন সলেমান শেখ জানান, আমাদের বাড়ি খুব দুর্গম এলাকায়। চাঁদ রাতে নিশি আক্তার যখন প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন, তখন স্থানীয় একটি ক্লিনিকে তাকে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে সেবা মেলেনি। এরপর আরও ২-৩ কেন্দ্র ঘুরে অবশেষে তাকে বাগেরহাট মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে নিয়ে আসি। এখানে সকল স্টাফ আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান করেন। ঈদের দিন সকালে নরমাল ডেলিভারি হয়। এখন মা ও শিশু উভয়ে সুস্থ আছে।’ তারা (মা নিশি আক্তার ও সলেমান শেখ) বিনামূল্যে আন্তরিক সেবা পেয়ে সংশ্লিষ্ট সকল সেবাদাতাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুরূপ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, এসময়ে সেবা পাওয়া খাদিজা বেগম, সোহানা খাতুন, হালিমা বেগম, ঝুমুর আক্তার, শেফালী রানীসহ সকলে।
বাগেরহাট মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের সেবাদাতাদের মধ্য পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মাহামুদা সুলতানা, ফাতিমা খানম, রাবেয়া সুলতানা, সহকারী নার্সিং এ্যাটেনডেট মিনা রানী দাস, জান্নাতুল ফেরদৌসি জানান, ্ ঈদের ছুটির সময়ে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা নরমাল ডেলিভেরি, গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব ও প্রসব পরবর্তী, স্বল্প মেয়াদী পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও শিশুসেবা সহ সাধারণ রোগীদের বিনামূল্যে আন্তরিকতার সাথে আমরা সেবা প্রদানে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।’
বাগেরহাট পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শামসুদ্দীন মোল্লা বলেন, এ জেলায় একটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং ৭৫ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। পবিত্র ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে সেবা প্রার্থী কোন মানুষের যাতে কোন প্রকার ভোগান্তি না হয়, সেজন্য মহা-পরিচালক স্যার এবং খুলনা বিভাগীয় পরিচালক স্যারের সার্ব্বিক দিক-নির্দেশনায় আমাদের সকল কেন্দ্র গুলি সার্ব্বক্ষণিক স্বাস্থ্য সেবা অব্যাহত রাখা হয়। এজন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হয়।’ ভবিষ্যতে জনকল্যাণে এই সেবামুলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র মতে, এসময়ে ১৫৩ জন গর্ভবতী নারীকে গর্ভকালীন (এএনসি) সেবা, ২১ জনকে স্বাভাবিক প্রসব সেবা (এনভিডি), ৭২জনকে প্রসব পরবর্তী সেবা (পিএনসি) প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া শতাধিক শিশু-কিশোর-কিশোরীসহ ৫ শতাধিক সাধারণ রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়
কানন