ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

জয়পুরহাটে দূর্ধর্ষ ডাকাতি, প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট

জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩:১৬, ৫ এপ্রিল ২০২৫

জয়পুরহাটে দূর্ধর্ষ ডাকাতি, প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট

জয়পুরহাটে একটি গ্রামীণ বাজারের নৈশপ্রহরিদের বেঁধে চারটি দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি করা হয়েছে। এসময় ২০-২৫ জনের কালো মুখোশধারী একদল ডাকাত  চারটি  দোকানের তালা কেটে  আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে ট্রাকযোগে নিয়ে যায়।

শনিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত আক্কেলপুর উপজেলার মোহনপুর বাজারে এই দুৃর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। 

 আজ শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় মোহনপুর বাজারের ডাকাতি হওয়া চার দোকান মালিক থানায় এসেছিলেন। এরপর থানার ওসি ঘটনাস্থল পরির্দশনে যান। 

মোহনপুর বাজারের দোকানীরা জানান, এই বাজারে আট জন নৈশপ্রহরি রয়েছেন। এরমধ্যে  শুক্রবার রাতে একজন নৈশপ্রহরি ডিউটিতে আসেননি। শুক্রবার রাতে সাত জন নৈশপ্রহরি ডিউটি করছিলেন। রাত  তিনটার দিকে নৈশপ্রহরি রফিকুল ইসলাম প্রথমে কালো মুখোশপরা চার জন ব্যক্তিকে  বাজারের সড়কে ঘোরাঘুরি করতে দেখে বাঁশি বাজালে সে সময় মুখোশপরা ওই চার ব্যক্তি এসে নৈশপ্রহরি রফিকুলের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। 

তখন  তাঁর মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। ডাকাতেরা তাঁর হাত-পা বেঁধে একটি দোকানের পাশে ফেলে রাখেন। এরপর ২০-২৫ জনের ডাকাত দল বাজারে অন্য ছয় জন নৈশ প্রহরিকে ধরে এনে মারধরের পর তাঁদের হাত-পা বেঁধে একই জায়গায় ফেলে রাখেন। ৪-৫ জন ডাকাত দল নৈশ প্রহরিদের ঘিরে রাখেন। অন্য ডাকাতেরা বাজারের সড়কের ওপর একটি মিনি ট্রাক এনে রাখেন। ডাকাত দলের সদস্যরা বাজারের  দুটি কীটনাশকের, একটি মুদিখানা ও একটি ইলেকট্রনিক্স দোকানের তালা কেটে মালামাল লুট করে মিনি ট্রাকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যান। ডাকাতেরা পালিয়ে যাওয়ার আগে নৈশপ্রহরি কানা রফিকুলের হাতের বাঁধন খুলে দেন। 

এরপর কানা রফিকুল অন্য একজন নৈশপ্রহরির হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দেন। নৈশ প্রহরিরা একে-একে সবাই মুক্ত হয়ে বাজারের আশপাশের বাসিন্দাদের ডেকে আনেন। ডাকাতেরা চারটি দোকানের আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগে রাতের বেলায় পুলিশ বাজারে আসত। এখন আর রাতের বেলায় পুলিশ বাজারে আসে না। 
 
আহত নৈশপ্রহরি রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০-২৫ জনে সশস্ত্র  ডাকাত দলের সদস্যরা সবাই কালো মুখোশ পরা ছিলেন। ডাকাতেরা আমাদের সাত জন নৈশপ্রহরিকে মারপিটের পর হাত-পা বেঁধে দোকানের পাশে ফেলে রাখেন। ৪-৫ জন ডাকাত আমাদের পাহারা দিচ্ছিলেন। হলুদ রঙের মিনি ট্রাকে পালিয়ে যাওয়ার আগে ডাকাতেরা নৈশপ্রহরি কানা রফিকুলের হাতের বাঁধন খুলে দেন। এপর আমরা সবাই মুক্ত হয়ে আশপাশের লোকজনদের ঘটনাটি জানিয়েছি।
 
কীটনাশকের দোকানের  মালিক ছানাউল ইসলাম বলেন, নৈশপ্রহরিদের বেঁধে রেখে বাজারের চারটি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুধু আমার দোকানের ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। চারটি দোকান মিলিয়ে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে।

কীটনাশকের দোকানদার মেহেদী হাসান বলেন, আমার দোকানের তালা কেটে ২০ লাখ টাকার কীটনাশক, সাইফুল হাসানের মুদিখানার দোকান থেকে নগদ টাকাসহ ৭ লাখ টাকার মালামাল, সানাউল এর কীটনাশক দোকান থেকে আনুমানিক ৫ লাখ টাকার মালামাল ও ফজলুর রহমানের ইলেকট্রনিক দোকান থেকে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করে ট্রাকযোগে  নিয়ে যায় তারা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুনুর রশীদ পিন্টু বলেন, মোহনপুর বাজারের চারটি দোকানে ডাকাতি হয়েছে। আমরা ডাকাতেরা চলে যাওয়ার পর ঘটনাটি জানতে পেরেছি। এঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন।
  
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা  বলেন, মোহন বাজারের কয়েক জন ব্যবসায়ী থানায় এসেছিলেন। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। ওসি বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ সুপারও আবদুল ওয়াহাবও এসেছেন।

মুমু

×