
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী চেল্লাখালী নদীর পাড় ভেঙে গভীর গর্ত করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছেই। ফলে হুমকিতে পড়েছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ওইসব বাড়িঘর নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন নদীর পাড়ের বাসিন্দারা। বালু খেকোদের ভয়াল থাবা থেকে বাঁচতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আবেদন করছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে, নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যেই চেল্লাখালী নদীতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে ড্রেজার মেশিন ও বালু উত্তোলনের বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংস করছেন। এমনকি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের জেল জরিমানা করা হচ্ছে। কিন্তু কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধ বালু উত্তোলন। আগের দিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করে ড্রেজার মেশিন অকার্যকর করে দেন। পরের দিন আবার ওই ক্ষতিগ্রস্থ মেশিন মেরামত করে কিংবা ক্রয় করা নতুন মেশিন বসিয়ে নির্ভয়ে দিনে রাতে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন তারা। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিলীনসহ জলবায়ু হুমকিতে পড়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল জানান এসব অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ আইনে মামলা দায়ের করা ছাড়া তাদেরকে থামানো সম্ভব হবে না।
সুত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্যে থেকে বয়ে আসা পাহাড়ি খরস্রোতা চেল্লাখালী নদীর কিছু অংশ চলতি বছর ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু মুল নদীতে বালু না থাকায় নদীর তীর ভেঙে ২০/৩০ ফুট গভীর গর্ত করে বালু উত্তোলন করছেন কতিপয় অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। এতে উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বারমারী বাজার এলাকার জামে মসজিদের পশ্চিম পাড়ের বাতকুচি মৌজার বাতকুচি সাবেক ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন গ্রামের কমপক্ষে ১০/১২ টি পরিবারের বসতবাড়ি নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এরমধ্যে ওই গ্রামের আয়নাল হক, নুর আলী, আবদুল খালেক, আবদুল মালেক, আবদুল করিম, ফরিদ মিয়া, ফারুক মিয়া, জহুরা বেগম, নুর মোহাম্মদ, মোতালেব, আবদুল কাদির ও ফরহাদের বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে। এছাড়া ওই গ্রামে যাওয়ার সরু রাস্তাটি ভেঙে বালু উত্তোলন করেছে বালু খেকোরা। এসব বালু খেকোদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তারা সন্ত্রাসী কায়দায় নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে ভুক্তভোগীদেরকে। এমনকি বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গেলে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সাথে বাগ বিতন্ডা কখনো বা হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। বর্তমানে বসতবাড়ি রক্ষা করতে নিরুপায় হয়ে পড়েছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা।
ওই গ্রামের ভুক্তভোগী আয়নাল হক বলেন, আমি দরিদ্র অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ। আমার বাড়ির পাশে মিনি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তীর ভেঙে প্রায় ২০/৩০ ফুট গভীর গর্ত করে বালু উত্তোলন করছে ব্যবসায়ীরা। এতে আমার বসতবাড়িসহ কমপক্ষে ১৩টি পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে চলে যেতে বসেছে। বালু উত্তোলনকারীরা কোন বাঁধা মানছে না। তারা আরো আমাদেরকে উল্টো হুমকি দিচ্ছে। আমি আমার বসতবাড়ি বাঁচাতে ও এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি। ওই আবেদনের পর একদিন ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করলেও আবার পুরোদমে দিনেরাতে বালু উত্তোলন শুরু করেছে।
এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে ড্রেজার মেশিন অকার্যকর করা হচ্ছে। পাশাপাশি জড়িতদেরকে গ্রেফতার করে জেল জরিমানা করা হচ্ছে। একইসাথে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুমু