ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

রাজবাড়ী

বোরো ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত কিষাণ-কিষাণিরা

নিজস্ব সংবাদদাতা রাজবাড়ী

প্রকাশিত: ০০:৫৫, ৫ এপ্রিল ২০২৫

বোরো ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত কিষাণ-কিষাণিরা

মাঠজুড়ে চলছে কিষাণ-কিষাণিদের ধান কাটার ও মাড়াইয়ের দৃশ্য

রাজবাড়ী জেলার প্রতিটি উপজেলা এলাকায় শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই করার মৌসুম। পদ্মা নদীর পাড়ঘেঁষা এই জেলার কৃষকরা এখন ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠজুড়ে চলছে কৃষক-কিষাণিদের হাসিমুখে ধান কাটার ও মাড়াই করার দৃশ্য, যা প্রাণচাঞ্চল্য এনে দিয়েছে গ্রামীণ জনপদে।
আবহাওয়া অনুকূল এবং বর্ষার পানিতে তলিয়ে না যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবার  বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কিষাণ-কিষাণিরা। সময়মতো বৃষ্টি, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার ফলে ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং বাজারে ধানের ভালো দাম থাকায় তারা এবার ভালো লাভের আশা করছেন। 
স্থানীয় কৃষক মো. মালেক বেপারি বলেন, এবার ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আমরা কম খরচে চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। যদি বাজারে দাম ঠিক থাকে, তাহলে এই ধান আমাদের পরিবারের সচ্ছলতা আনবে। এই কৃষক আরও বলেন, বোরো ধান আবাদ করতে জমিতে কোনো চাষ করতে হয় না। বর্ষার পানি চলে যাওয়ার পর বোরো ধানের চারা রোপণ করলে এই ধানের আবাদ শেষ হয়ে যায়।

সুতরাং বোরো ধানে অনেক লাভ হয়। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে পুরো ধান নষ্ট হয়ে যায়। এ সময় আয়মানা নামের এক নারী কৃষক বলেন, রাজবাড়ী জেলা নদী ভাঙনকবলিত। প্রতিবছর এই জেলার অনেক আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যায়। তবে পদ্মা নদীর পার দিয়ে এবং জেগে ওঠা চর এলাকায় প্রতিবছর বোরো ধান আবাদ করা যায়। এবার জেলায় প্রতিটি এলাকায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। খরচ কম হওয়ায় অনেক লাভবান হওয়া আশা করছি। 
বদিরুজ্জামান টোকন নামের এক কৃষক বলেন, এবার ৫০ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছি। ধানও অনেক ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ৪ জন মিলে একত্রিত হয়ে বোরো ধানের আবাদ করেছি। এবার অনেক লাভবান হব আশা করি। 
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। রাজবাড়ী জেলার ধান এখন মাঠ থেকে ঘরে তুলতে শুরু করেছে কৃষকরা।
স্থানীয় অনেক কৃষক বলছেন, বোরো ধানের আবাদ করা জমি বছরের বেশির সময় নদীর বুকে ডুবে থাকে। বছরে একবার সর্বোচ্চ আবাদ করা যায়। তাও আবার অনেক বছর বর্ষার পানিতে ডুবে যায়। বোরো ধান ঘরে উঠানো অনেক ভাগ্যেও ব্যাপার বলে তারা মনে করেন। তারা বলেন, খরচ কম হলেও বোরো ধানে ঝুঁকি বেশি। যে কারণে কৃষক বোরো ধান আবাদ করায় আগ্রহ পায় না।  
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ উপ-পরিচালক ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, বোরো ধান মূলত নদীর পার এবং চর এলাকায় হয়ে থাকে। বোরো ধানের জমিতে চাষ করতে হয় না। বর্ষার পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর বোরো ধানের চারা রোপণ করতে হয়। সুতরাং এই ধানে অনেক লাভ।

×