ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

নদী তীরে জিও রোল দিয়ে অস্থায়ী রিংবাঁধ নির্মাণ

পাঁচদিন পর বন্ধ হলো সাতক্ষীরা লোকালয়ে পানি ঢোকা

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা

প্রকাশিত: ০০:৪৭, ৫ এপ্রিল ২০২৫

পাঁচদিন পর বন্ধ হলো সাতক্ষীরা লোকালয়ে পানি ঢোকা

সাতক্ষীরা রিংবাঁধ নির্মাণে সেনাবাহিনীর পদাতিক ইউনিটের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের সদস্যরা কাজ করছেন

টানা ৫ দিন পর সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন কবলিত বেড়িবাঁধের পাশে জিও টিউবের মাধ্যমে বিকল্প রিংবাঁধ দিয়ে  লোকালয়ে পানি ঢোকা বন্ধ করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এবং সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় জিও রোল বসানোর ফলে  শুক্রবার দুপুর থেকে পানি লোকালয়ে ঢোকা বন্ধ হয়েছে।

কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ভাঙন কবলিত মানুষের মাঝে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া জিও রোল দিয়ে এই বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হলেও শুক্রবার দুপুরের পরে এই জ্ওি রোল বসিয়ে রিংবাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস। পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, জিওব্যাগ দিয়ে প্রথমে পানি আটকানো হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে মূল বাঁধ তৈরি করা হবে।  
বিছট গ্রামের বেড়িবাঁধ ভাঙনের ৪৮ ঘণ্টা পর ভাঙন পয়েন্টে আধুনিক জিও টিউব দিয়ে একটি বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে এই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলে টানা তিন দিন। বৃহস্পতিবার  দুপুরে এক দফা জিও রোল বসিয়ে রিংবাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও দুপুরে ফের জোয়ারে পানিতে এলাকা প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার  রাতে  জোয়ারের পানি কমে যাওয়ায় আবার কাজ শুরু করা হয়। শুক্রবার দুপুরে এই বিকল্প রিংবাঁধের জন্য জিও রোল বসানো শেষ হয়। 
উল্লেখ্য, ৩১ মার্চ সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের বিছট গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে প্রায় দেড়শ’ ফুট এলাকা জুড়ে বেড়িবাঁধ হঠাৎ করে খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। নদীর পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়ে আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট, বল্লভপুর, আনুলিয়া, নয়াখালী চেঁচুয়া ও কাকবসিয়া গ্রাম। এর মধ্যে নয়াখালী গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়।  

বাঁধের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় প্রকৌশলী জানান, আধুনিক পদ্ধতির জিওটিউব দিয়ে বাঁধের প্রাথমিক কাজ করে পানি ঢোকা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এখানে পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় প্রথম লেয়ারের কাজ শেষে দ্বিতীয় ও তৃতীয় লেয়ারের কাজ করতে হবে। পরে বাঁধের স্থায়িত্বের জন্য তার ওপরে মাটির কাজ করতে হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার  পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মল্লিক সাঈদ মাহবুব, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফিরোজ সরকার, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ, পানি উন্নয়ন  বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আশাশুনির বিছট গ্রামের বেড়িবাঁধ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

অপরদিকে আনুলিয়া ইউনিয়নের প্লাবিত এলাকায় নৌবাহিনী, বিভাগীয় কমিশনার, কোস্টগার্ড ও জামায়াতের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। শুক্রবারও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। 
সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ ॥ আনুলিয়া ইউনিয়নের বিছট গ্রামে রিং বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সহায়তায় সেনাবাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সেনাবাহিনীর একটি পদাতিক ইউনিটের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের সেনাসদস্যগণ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে বাঁধ মেরামতের কাজ বাস্তবায়ন করছে। খবর আইএসপিআরের।
সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্থানীয় জনগণ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় দুই পাশ থেকে রিং বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। বর্তমানে মোট পাঁচটি বাল্কহেড বাঁধ মেরামতের কাজ করছে। ২ এপ্রিল ৯৬ মিটার এবং ৩ এপ্রিল ২৪০ মিটার জিওটেক্সটাইল ব্যাগ স্থাপন করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ৩ এপ্রিলের মধ্যে ৫০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। এ ছাড়াও, ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পানিবন্দি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছে।
খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ আনুমানিক বেলা ১১টায় উল্লেখিত বেড়িবাঁধটির একটি অংশ ভেঙে প্রায় ১৫০ ফুট জায়গা খোলপেটুয়া নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
এ ছাড়া, সাতক্ষীরার প্লাবিত এলাকায় গত  ৩ এপ্রিল নৌবাহিনী জরুরি ত্রাণ ও মেডিক্যালসামগ্রী বিতরণ করে।

×