ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

নজর কাড়ছে সোমেশ্বরী নদীর কাঠের সেতু

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ০০:১৩, ৫ এপ্রিল ২০২৫

নজর কাড়ছে সোমেশ্বরী নদীর কাঠের সেতু

দুর্গাপুরে ৮শ’ ফুট দীর্ঘ কাঠের সেতু পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু

ওপরে নীল আকাশ। নিচে স্বচ্ছ জলরাশি। এর মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৮০০ ফুটের একটি কাঠের সেতু। সেতু দিয়ে এগিয়ে গেলেই সোমেশ^রী নদীর প্রাকৃতিক দৃশ্য। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মন কাড়ছে পর্যটকদের। কেন্দ্রীয় বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এ নদীর ওপর দিয়ে সাধারণ মানুষ চলাচলের জন্য তৈরি করে দিয়েছেন ৩টি সেতু। সেইসঙ্গে করেছেন টোল ফ্রি। ঈদের বেড়াতে পর্যটকদের এ যেনো এক বাড়তি পাওয়া।
কাঠের পাটাতন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে সেতুটি। সেতুর মাঝখানে মাঝখানে রয়েছে বিভিন্ন রং বেরঙের বেলুন ছাউনি। রাতের অন্ধকারে সেতুটির সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন রঙের ঝারবাতি দিয়ে। শেষ বিকেলের আলোয় সেতুতে দাঁড়িয়ে সূর্য ডোবার দৃশ্যও উপভোগ করেন অনেকে। 
এবার ঈদুল ফিতরে বেড়াতে আসা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভিন হোসেন তাইফের সঙ্গে কথা হয়। তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, পুরো সেতুটিই সুন্দর ও মনোরম। ভেবেছিলাম পারাপারে টাকা রাখবে। কিন্তু কোনো টাকা রাখেনি। আমরা ১২ জন এখানে এসেছি ঘুরতে। ৮০০ মিটার লম্বা সেতু দিয়ে শেষ পান্তে গিয়ে নদীর পরিবেশটা মন ভরে দেখেছি। ধন্যবাদ জানাই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাহেবকে।
ময়মনসিংহ থেকে বেড়াতে আসা আজহারুল ইসলাম ফেসবুকে এবং অনেকের কাছ থেকে শুনে দুর্গাপুরের কাঠের সেতু এবং বিজয়পুরের সাদামাটি দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, কাঠের সেতু দিয়ে পারাপার এক দারুণ অনুভুতি। সেইসঙ্গে বিজয়পুরের সাদামাটির পাহাড়, রানীখং মিশন, সোমেশ^রী নদীর স্বচ্ছ পানিতে গোসল করা দারুণ লেগেছে। 
আরেকজন পর্যটক নাজমা আক্তার বলেন, এতবড় কাঠের সেতু মনে হয় এক অপরূপ সৃষ্টি। বিশাল স্বচ্ছ পানির সোমেশ^রী নদী, বিশাল বালুচর, সাদামাটির পাহাড় সব মিলিয়ে যেন অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই সুসঙ্গ দুর্গাপুর। কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাই, পর্যটন এলাকায় আরও বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো জন্য। ধন্যবাদ জানাই ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে সাধারণ মানুষের জন্য কাঠের সেতু তৈরি করে দেওয়ার জন্য।  
সেতুর দু’পাড়ে বিলবোর্ড সাঁটানো রয়েছে, তাতে লেখা আছে, এই কাঠের সেতু একটি অলাভজনক প্রকল্প। সেতু নির্মাণে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের অর্থায়নে ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। পথচারী, বাই-সাইকেল, রিক্সা, প্যাডেলচালিত ভ্যান, গরু-ছাগল, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মালামাল পারাপারে কোনো টাকা লাগবে না। শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি, মালবাহী গাড়ি, পিকআপ, সিএনজি-ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল টোল আদায়যোগ্য। অর্জিত অর্থ স্থানীয় ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুদান এবং মানবকল্যাণে ব্যয় করা হবে। 
সেতুটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা সুমন খান বলেন, দুর্গাপুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি। সাদা মাটির পাহাড়, হাজং মাতা রাশি মণি স্মৃতি সৌধ, কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি যাদুঘর, কমল রানীর দিঘী, সুসঙ্গ রাজবাড়ী, নীল পানির জলাধার, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একাডেমি, সোমেশ^রী নদীর স্বচ্ছ পানিসহ অসংখ্য পর্যটন স্পট রয়েছে এখানে।

ঈদের ছুটি কাটাতে পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। কাঠের সেতুতে কোনো টোল রাখা হয় না জেনে অবাক হয়ে যান এবং ধন্যবাদ জানান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাহেবকে।
বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এ প্রতিনিধিকে বলেন, মানুষের কষ্ট সাময়িকের জন্য হলেও দূর করার চেষ্টা করেছি। বিএনপি দেশের মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য রাজনীতি করছে। তবে যদি সুযোগ আসে, তাহলে এই সোমেশ্বরী নদীর ওপর সবচেয়ে সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন সেতু তৈরি করা হবে।

×