ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

তালতলীতে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে আত্মহত্যা

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:০৯, ৪ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ১১:১৩, ৪ এপ্রিল ২০২৫

তালতলীতে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে আত্মহত্যা

ছবি: সংগৃহীত।

বরগুনার তালতলীতে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন। প্রথম স্ত্রী স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে মেনে না নেওয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীসহ আত্মহত্যা করেন স্বামী।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাতে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— মো. ইকবাল (২০), পাশের বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষীপুরা গ্রামের শুক্কুর হাওলাদারের ছেলে এবং ডিভোর্সি লামিয়া (২০), পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের পূর্ব সুবেদখালী গ্রামের জাফর ফকিরের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইকবাল ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেখানে প্রেমের সূত্রে দুই বছর আগে ভোলা জেলার নাজমা আক্তারকে বিয়ে করেন। পরে প্রথম স্ত্রী নাজমা আক্তারকে বাড়িতে রেখে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরে যান ইকবাল। সেখানে কাজের সুবাদে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ডিভোর্সপ্রাপ্ত লামিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে, গত নয় মাস আগে তারা বিয়ে করেন।

ঈদের ছুটিতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে এলে প্রথম স্ত্রী তার দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নেননি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। এ অবস্থায় ইকবাল নিজের বাড়িতে উঠতে না পেরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে তালতলী উপজেলার চাউলাপাড়া গ্রামের রহিম ডাক্তার বাড়িতে আশ্রয় নেন। রহিম ডাক্তার ইকবালের বোনের শ্বশুর। ওই বাড়ির একটি কক্ষেই তারা আত্মহত্যা করেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত ইকবালের বাবা শুক্কুর হাওলাদার বলেন, "আমার ছেলে ঢাকায় কাজ করতেন। সেখানে তিনি নিজে নিজেই দুই বছর আগে প্রথম স্ত্রী নাজমা আক্তারকে বিয়ে করেন এবং প্রায় ৮-৯ মাস আগে লামিয়াকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বেয়াই বাড়িতে আসেন এবং সেখানে আত্মহত্যা করেন।"

এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুজনেই আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে অন্য কোনো কারণ থাকলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশের তদন্তের পর জানা যাবে।"

নুসরাত

×