ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

অনাবৃষ্টি ও দাবদাহে বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা

তাহমিন হক ববী, স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী।

প্রকাশিত: ০১:২২, ৪ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ০১:২৪, ৪ এপ্রিল ২০২৫

অনাবৃষ্টি ও দাবদাহে বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা

ছবিঃ সংগৃহীত

চৈত্রের দাবদাহ আর অনাবৃষ্টিতে নীলফামারী সহ উত্তরাঞ্চলের দেখা দিয়েছে সেচ সংকট। ভু-গর্ভের পানির স্তরও নিচে নেমে গেছে। ফলে পানি উঠছে না নলকূপে। সেচপাম্পে অগভীর নলকূপ কাক্ষিত পরিমাণ পানি উত্তোলন না হওয়ায় বোরো ক্ষেতে সময়মতো সেচ দিতে পারছেন না কৃষকেরা। তবে তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের কমাণ্ড এলাকায় মাত্র ৫০ হাজার হেক্টর বোরো ক্ষেত সেচ পাচ্ছে। অথচ রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলা নীলফামারী, রংপুর, লালমনিহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় বোরো আবাদ অর্জিত হয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার ৫৬ হেক্টর জমিতে।

স্থানীয়রা জানান, চৈত্রের এই সময়ে তাপমাত্রা বেশ বাড়তি। ক্ষেত-খামারে কৃষকদের কাজকর্মে হাঁসফাঁস অবস্থা। এদিকে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার লক্ষে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কৃষকদের সেচের মাধ্যমে সেচ প্রদানের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সরেজমিন বিভিন্ন গ্রামে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জমিতে চাষ করা হয়েছে বোরো ধান। সেচ না থাকায় জমিতে ফাটল ধরেছে। এর সঙ্গে পানির স্তর নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েল থেকে মিলছে না পানি।

যদিও কেউ কেউ গভীর সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে পানির ব্যবস্থা করেছেন। শ্যালো চালিত সেচ যন্ত্রের কৃষকরা বলছেন পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এতে ধান উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। কৃষকেরা বলছেন, এত টাকা খরচ করে বোরো ধানের চারা রোপণ করেছেন, কিন্তু অনাবৃষ্টি আর দাবদাহে জমির মাটি ফেটে যাওয়ায় বোরো ধানের ফলন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।


সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মপুরের কৃষক জানান, অনেক সেচপাম্প দিয়ে পানিই উঠছে না। আবার কিছু পাম্প দিয়ে অল্প পানি ওঠায় ওই পাম্পের আওতায় রোপণ করা বোরো ক্ষেতে দীর্ঘ ১০ দিনেও পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জমি ফেটে চৌচির হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গ্রামের গভীর পুকুরগুলো শুকিয়ে গেছে। এ ছাড়া নলকুপে পানি না ওঠায় খাবার পানি সংকটে ভুগছেন গ্রামবাসী।


নীলফামারীর জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরীগঞ্জ, সদর ও সৈয়দপুর থেকে বাসিন্দারা জানান, তাদের উপজেলায় সেচ ও পানের পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ সময় বোরো জমিতে পানি থাকা খুবই প্রয়োজন।  


সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, গত বছর মার্চ মাসে বৃষ্টির পরিমাণ ২৪ মিলিমিটার ছিল। কিন্ত চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৬ মিলিমিটার। তাপমাত্রা গত এক সপ্তাহ থেকে সর্বনিম্ন ১৯ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকছে। আবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬,৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তিনি আরও জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের তেমন সম্ভাবনা নেই। 


রংপুর কৃষি অঞ্চল অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে রংপুরে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮০০ হেক্টর, গাইবান্ধায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ১লাখ ১৭ হাজার ৩৬২ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৪৮ হাজার ১৫ হেক্টর ও নীলফামারীতে ৮১ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। সুত্র মতে বোরো ধান আবাদের লক্ষমাত্রা ৫ লাখ ৮ হাজার ৯৭৮ হেক্টর ধরা হলেও অতিরিক্ত ৭৮ হেক্টর বেশী জমিতে বোরো আবাদ করেছে কৃষক। কিন্তু দিন দিন তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং অনাবৃস্টির কবলে পড়েছেন কৃষক।


নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম জানান, কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে গভীর নলকুপ দিয়ে সেচের বিকল্প নেই। এ কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেখানে তিস্তা সেচনালার পানি সরবরাহ রয়েছে, সেখানে ইরি-বোরো চাষিদের সমস্যা নেই। এ ছাড়া বরেন্দ্র সেচ চলছে। অপর দিকে তিস্তার সেচ পাচ্ছেন না এমন এলাকার কৃষকদের ব্যক্তিগত পাম্প দিয়ে সেচের কার্যক্রম চালু রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


তিস্তা সেচ প্রকল্পের উপসম্প্রসারণ কর্মকর্তা অমলেশ চন্দ্র রায় জানান, দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা হচ্ছে। এরমধ্যে নীলফামারী জেলায় ৩৩ হাজার হেক্টর, রংপুর জেলায় ১০ হাজার হেক্টর, দিনাজপুর জেলায় ৭ হাজার হেক্টর।  তিনি জানান, সেচ কমান্ড এলাকার ৫০ হাজার হেক্টর বোরো জমিতে যথাযথভাবে সেচ প্রদান চলছে।  তিনি জানান, সেচ কমাণ্ড এলাকায় সংস্কার কাজ চলছে। ২০২৬ সালে কাজ শেষ হলে ১লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমি সেচ পাবে।

রিফাত

×