
রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় আমের বাম্পার ফলন
চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় আমের বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। গত বছরের তুলনায় এবার ৩ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আম চাষ হয়েছে। এই বিভাগের কৃষকদের বাগানগুলো আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে। কৃষকরা তাদের কাক্সিক্ষত উৎপাদন ধরে রাখতে কৃষি বিভাগের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সমম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগে গেল বছর ১৮ হাজার ২৪৪ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এবার তা প্রায় ২২ হাজার হেক্টর ছাড়িয়েছে। এ ছাড়াও বাড়ির আনাচে-কানাচে আম গাছ রয়েছে যেগুলোর হিসাব নেই কৃষি বিভাগের কাছে।
রংপুর আঞ্চলিক উদ্যান অফিস জানিয়েছে, এ বছর রংপুর জেলায় আম চাষ হয়েছে ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে, গাইবান্ধা জেলায় ৪৬০ হেক্টর, কুড়িগ্রাম জেলায় ৫৭৬ হেক্টর, লালমনিরহাট জেলায় ৫৭৫ হেক্টর, নীলফামারী জেলায় ৫৩০ হেক্টর, দিনাজপুর জেলায় ৭ হাজার ৬৪৪ হেক্টর, ঠাকুরগাঁও জেলায় ৩ হাজার ৭৫৯ হেক্টর এবং পঞ্চগড় জেলায় ৫৫৪ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বিভাগে প্রায় ২০-২৫ প্রজাতির আমচাষ হয়। এর মধ্যে রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা, গোপালভোগ, ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি, আশ্বিনা, কালাপাহাড়ি, গুটি, মিষ্টিমধু, মধুচুষি, খিরশাপাতি উল্লেখযোগ্য। রংপুরের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে দেখা যায়, এবারে আমগাছগুলোতে মুকুল এসেছে বিপুল পরিমাণে। আম চাষিরা বলছেন, এবার অন্য যে কোনো বছরের তুলনায় এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা ছিল বেশি।
শীতের তীব্রতা কমার সঙ্গে সঙ্গে আম চাষের অনুকূলে এসে যায় আবহাওয়া। এর কারণে প্রচুর মুকুল এসেছে আম গাছগুলোতে। খুব অল্প সময়ে প্রায় সব আমগাছেই মুকুল এসেছে। আমের মুকুলের ম ম ঘ্রাণে ভরে উঠেছে এ অঞ্চল। আর কয়েকদিন পরেই এসব আমের মুকুল থেকে বের হবে থোকায় থোকায় আম।
রঙপুর জেলার মিঠাপুকর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নে ল্যাংড়া, খিরসা পাতি, আম্রপালি, ফজলি আমচাষি রেজাইর ইসলাম জানান, এ বছর তিন একর জমিতে আম চাষ করেছেন। আমে মুকুল ভালোই এসেছে। গুটি ধরতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া ভালো থাকলে তিনি গত বারের চেয়ে বেশি ফলন আশা করেন। গঙ্গাচড়ার হাট্রিকালচার তথ্যবিদ নিজে ৩ একর জমিতে আম্রপালি, ফজলি আম চাষ করেছেন মুকুল দেখা দিয়েছে। রংপুরের বদরগঞ্জের পোদাগঞ্জ এলাকার আম বাগান মালিক জানিয়েছেন, থোকায় থোকায় আম আসার পরেই শুরু“হবে বিপত্তি। আমের সঙ্গে আসবে আমের পোকা। এসব পোকা দমন করা না গেলে আম পাওয়া যাবে না। এ জন্য এখন থেকে তারা কৃষি বিভাগের সহযোগিতা চাচ্ছেন।