ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

কোথাও নেই যানজট

ঢাকা এখনো ফাঁকা, ঈদের পর স্বস্তিতে ফিরছেন মানুষ

জনকণ্ঠ রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:১৫, ৪ এপ্রিল ২০২৫

ঢাকা এখনো ফাঁকা, ঈদের পর স্বস্তিতে ফিরছেন মানুষ

ঈদে দীর্ঘ ছুটি পেয়ে অনেকেই বাড়ি গেছেন। তাই রাজধানীর সড়কগুলো এখনও অনেকটাই ফাঁক

ঈদুল ফিতরের পর রাজধানী ঢাকা এখনো ফাঁকা। বৃহস্পতিবার রাস্তায় মানুষের চলাচল যেমন কম তেমনি গণপরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়ি, রিক্সা, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিক্সার চলাচলও বেশ কম। ফলে যানজটের নগরী ঢাকার কোথাও এখন যানজট নেই। ব্যস্ততম এই শহরের রাজধানীবাসী ঈদের ছুটিতে পরিবার ও বাচ্চাদের নিয়ে প্রকৃতির মাঝে ঘুরতে আসেন জাতীয় চিড়িয়াখানায়।

ঈদুল ফিতরের চতুর্থ দিনেও চিড়িয়াখানায় ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষ। এতে রাজধানীর ব্যস্ততম পয়েন্ট, বিশেষ করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তাদের মধ্যে কেউ একা, কেউ আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে ফিরছেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গ্রামে যাওয়া কর্মব্যস্ত মানুষগুলো আবার ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন।

তবে ঈদের আগে যে পরিমাণ মানুষ ঢাকা ছেড়েছে এখনো সবাই ফেরেননি। আবার সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকায় যারা ঢাকায় ফিরেছেন, তারা বাইরে খুব একটা বের হচ্ছেন না। ফলে রাজধানী ঢাকার রাস্তা এখনো প্রায়ই ফাঁকা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত ঈদে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ ট্রেনে যাত্রা করে। এ কারণে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। ঈদযাত্রায় প্রতিদিন ৭১টি ট্রেন চলাচল করছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘এবারের ঈদযাত্রায় স্টেশন থেকে ট্রেনের গন্তব্য পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। টিকিট যাচাই করতে ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখতে এবং যাত্রীদের সুবিধার্থে ঢাকাগামী ৯টি ট্রেনের বিমানবন্দর স্টেশনের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকামুখী ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীদের চাপ সামলাতে জয়দেবপুর স্টেশন থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকা থেকে জয়দেবপুরমুখী ট্রেনে টিকিট ইস্যু বন্ধ রাখা হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষ হতে না হতেই কর্মব্যস্ত রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।

বৃহস্পতিবারও ঢাকা অভিমুখী হচ্ছে মানুষ। তবে এবার ফিরতি যাত্রায় অন্যবারের মতো তীব্র ভিড় কিংবা চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ট্রেন, বাস ও লঞ্চ সব মাধ্যমেই তুলনামূলক স্বস্তিতে ফিরছে যাত্রীরা। গত কয়েক বছর ধরে ঈদের পরে ঢাকায় ফেরার পথে স্টেশনে ও বাস টার্মিনালে তীব্র ভিড় লেগে থাকত। কিন্তু এবারের চিত্র খানিকটা ভিন্ন। কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবেই ট্রেন থেকে নামছেন। ট্রেনগুলোর শিডিউলও মোটামুটি ঠিক রয়েছে, ফলে বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে না কাউকে। একই চিত্র মহাখালী, গাবতলি ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও।

উত্তরবঙ্গ, চট্টগ্রাম কিংবা সিলেটগামী বাসগুলো যথাসময়ে ছেড়ে আসছে, এবং যাত্রীরাও স্বাভাবিকভাবেই তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। টিকিটের জন্য হাহাকার কিংবা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও এবার তুলনামূলক কম। চিলাহাটি থেকে আসা নীল সাগর এক্সপ্রেসের যাত্রী আমজাদ জানান, আমি গত বুধবারে টিকিট করেছি। বৃহস্পতিবার খুব স্বাভাবিকভাবেই পরিবার নিয়ে ঢাকায় আসলাম। সময়মতোই পৌঁছেছি। আগে কখনো ঈদযাত্রায় এতটা স্বস্তি ছিল না।
দিনাজপুর থেকে আসা আমিনুল ইসলাম জানান, এবার যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। কোনোরকম ধাক্কাধাক্কি ছাড়া ট্রেনে আসতে পেরেছি। একই কথা বলেন ফুলবাড়ি থেকে আসা রফিকুল ইসলাম, প্রতিবারই ফেরার পথে দুশ্চিন্তায় থাকতাম, এবার কোনো ভোগান্তি হয়নি। ঈদের পর বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তায় মানুষের চলাচল যেমন কম তেমনি গণপরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়ি, রিক্সা, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিক্সার চলাচলও বেশ কম।

ফলে যানজটের নগরী ঢাকার কোথাও এখন যানজট নেই। ঢাকার এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় খুব সহজেই যাতায়াত করতে পারছেন ঘর থেকে বের হওয়া মানুষ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, মতিঝিল, শাহবাগ, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, মিরপুর, রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, মৌচাক ও কাকরাইল ঘুরে কোথাও কোনো যানজট চোখে পড়েনি। প্রতিটি এলাকার সড়কেই যানবাহনের সংখ্যা বেশ কম দেখা গেছে।

নতুনবাজার থেকে মোটরসাইকেলে গুলিস্তান আসা মো. সাজাহান বলেন, একটি মোবাইল ঠিক করার জন্য গুলিস্তানে এসেছিলাম। রাস্তা একেবারে ফাঁকা। নতুনবাজার থেকে গুলিস্তান আসতে কোথাও কোনো সিগন্যালে পড়তে হয়নি। ২০ মিনিটের মধ্যে চলে এসেছি। অফিস খোলার দিন এই রাস্তাটুকু আসতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। তিনি বলেন, রাস্তা ফাঁকা হওয়ায় ঢাকার রাস্তায় চলাচল করে খুব শান্তি  পাচ্ছি।

কিন্তু গুলিস্তানে এসে হতাশ হয়েছি। যে কাজে এসেছিলাম, সেই কাজ হয়নি। কারণ দোকান বন্ধ। সবাই নাকি ঈদের ছুটিতে। এখন আবার আগামী রবিবার আসতে হবে। খুলনা থেকে ঢাকায় আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের অফিস শনিবার থেকে খোলা। আগামীকালও ছুটি। রাস্তার ভোগান্তি এড়াতে একদিন আগেই চলে এলাম।

কারণ আমাদের ধারণা আগামীকাল শুক্রবার ও পরের দিন শনিবার রাস্তায় মানুষের প্রচুর চাপ থাকবে। ঈদের আগে শুক্র ও শনিবার রাস্তায় মানুষের প্রচুর চাপ দেখেছিলাম। তিনি বলেন, গ্রামের বাড়িতে বাবা, মা, ভাই, বোন আছে। জীবিকার তাগিদে এই যান্ত্রিক নগরী ঢাকায় পড়ে থাকি। ১০ বছর ধরে ঢাকায় আছি। প্রতিবারই ঈদে বাড়ি যাই।

×