
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় সারি সারি কাঁচা কলার কাঁদি কেটে বাগানে ফেলে গেছেন দুর্বৃত্তরা। উপজেলার ঘোগা ইউনিয়নের বিজয়পুরে ইসমাইল হোসেনের ১৭ বিঘা জমির ৫০০ কলাগাছ কেটে ফেলেন দুর্বৃত্তরা, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালে মুক্তাগাছার ঘোগা ইউনিয়নের বিজয়পুর এলাকার ইসমাইল হোসেনের কলা বাগানে এ ঘটনা ঘটে। ইসমাইল হোসেন ওই ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সারি সারি কাঁচা কলার কাঁদি কেটে বাগানে ফেলে গেছেন দুর্বৃত্তরা। এছাড়া, কিছু কলাগাছ কোপ দিয়ে কেটে রেখে গেছেন তারা। ৩,০০০টি গাছের কলা ছিল ভরপুর বাগান। সেখান থেকে প্রায় ৫০০ কলাসহ গাছ কেটে ফেলেছে।
বাগানের মালিক ইসমাইল জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুলাল মেম্বার ও তাদের মাঝে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে। কিছুদিন আগে দুলাল মেম্বার আমাদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দিলে নানা ক্ষয়ক্ষতির হুমকি দিতে থাকে। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ শুনতে পাই দুলাল মেম্বার ও তার ছেলেসহ আরও অজ্ঞাত লোকজন নিয়ে কলা বাগান কেটে ফেলছে। পরে আমি সেখানে গিয়ে দেখতে পাই তারা রামদা দিয়ে কলাগাছ এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে। কখনো কলা গাছের মাঝে, কখনো কলার ছড়িতে কুপাতে থাকে। এতে করে আমার বাগানের ৫০০ কলাগাছ কেটে ফেলেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
ক্ষতিগ্রস্ত ইসমাইল হোসেন আরও বলেন, আমি ১৭ বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছি। ৩,০০০টি গাছে কলা ছিল। এর মধ্যে ৫০০ গাছ কেটে ফেলেছে। বাকি গাছগুলোও কাটার পায়তারা করছে। বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি সম্প্রতি কলা বিক্রি শুরু করতে চেয়েছিলাম। সময়মতো কলা বিক্রি করতে পারলে ছয় থেকে সাত লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম। আমি জানি না কীভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠবো।
অভিযুক্ত দুলাল মেম্বার বলেন, "ওয়ারিশসূত্রে ওই জমি আমাদের। আমরা ওই জমি পরিষ্কার করে হলুদ লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা কারও বাগান নষ্ট করিনি।"
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, "কৃষকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নুসরাত