
ছবি: জনকণ্ঠ
ফরিদপুরের সালথায় এক বিএনপি নেতাকে চাঁদা না দেওয়ার জেরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয়পক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুরসহ এক আওয়ামী লীগ সমর্থকের বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দলীয় কোন্দল নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। এ সময় বেলায়েত মোল্যার সমর্থক আজিজুল শেখ (৪১) কে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর পর দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয়পক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ সমর্থক কৃষক কবির শেখের বসতঘরে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ১০ থেকে ১২টি খড় ও পাটখড়ির গাদায়ও আগুন দেওয়া হয়।
বেলায়েত মোল্যা বলেন, "আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে গ্রামের বিএনপি নেতা মিন্টু মিয়া ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি, সাবেক ইউপি সদস্য টিটুল মিয়া আমার কাছেসহ আমাদের অনেকের কাছে টাকা চাচ্ছেন। আমাদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে বলে আসছেন, এলাকায় থাকতে হলে টাকা দিয়ে থাকতে হবে। টাকা না দেওয়ায় কয়েকদিন আগে আমাকে মারধর করা হয়। এরপরও আমি চুপচাপ ছিলাম। কিন্তু ওরা বারবার ঝামেলা করতে আসে। কতক্ষণ আর ধৈর্য ধরা যায়?"
তিনি আরও বলেন, "মালয়েশিয়া থেকে অসুস্থ হয়ে আসা আজিজুলের কাছেও টাকা চাওয়া হয়। সে ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে দিতে গেলে টাকা কম হওয়ায় তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়। ঘটনা শোনার পরে আমরা জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানাই। পরে ওরা ঢাল-সড়কি নিয়ে আমার বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে আমরাও প্রতিরোধ করি। এরপর ওরা আমাদের দলের ৪-৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে, একজনের বাড়িতে আগুন দেয় এবং কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করে।"
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মিন্টু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, "রমজানের মধ্যে পাশের খলিশপুট্টি মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে আমি গ্রামের লোকজন নিয়ে যাওয়ায় আফছার চেয়ারম্যানের দুই ছেলে—নাজমুল ও স্বপন মাতুব্বর—আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এর জের ধরে আজকের ঘটনায় তারাই নেতৃত্ব দিয়েছে। তবে কোনো চাঁদা চাওয়া নিয়ে মারামারি হয়নি। এখন ওরা মিথ্যাচার করছে। আমার দলের অনেককে আহত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের লোকজন আমার বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।"
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান জানান, "পূর্ব বিরোধের জেরে গ্রামের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় একটি বাড়ি ভাঙচুরসহ কয়েকটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।"
এম.কে.