
ছবি: সংগৃহীত
স্নিগ্ধ প্রকৃত অপেক্ষা ইট পাথরের নাগরিক জীবনের যান্ত্রিকতা পরিবেশকে করে তুলেছে যান্ত্রিক।নাগরিক জীবন ও পল্লী জীবনের যাঁতাকলে আবদ্ধ বেদনার্ত। ওরা তিন জন বন্ধু বাইসাইকেল চালিয়ে ছুটিয়া চলিয়াছেন। পারি দিতে হবে হাজার কিলোমিটার পথ। বাই সাইকেল চালিয়ে হাজার কিলোমিটার পাড়ি দেয়াই শুধু নয়। পথে পথে শহরের পথ ছেড়ে পল্লী গ্রামের পথে প্রবেশ করে কিছু বার্তা দিতে চায় দেশের মানুষজনকে এই তিনবন্ধু। তাই তারা বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পরিবেশ ও বায়ুদুষণ রোধে মানুষকে সচেতন করতে দেশের সর্বউত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া হতে টেকনাফ পর্যন্ত ছুটে চলা শুরু করেছেন।
'টেকসই পৃথিবী গড়ি, নেট-জিরো কার্বন মেনে চলি' এই প্রতিপাদ্য তাদের সামনে। তিন বন্ধুই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা হলেন ফরহাদ মিয়া ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি নড়াইল জেলায়। আল-আমীনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী, শাহিন আলমের বাড়ি সুনামগঞ্জে। তিনিও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ছলছল খলখল করে ছুটে চলা এবং পৃথিবীর এই সকল সামান্য গল্পের নায়ক তারা।
সাধারণ মানুষজন তাদের বাইসাইকেল দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন ও তাদের কথা মনোযোগ সহকারে শুনছেন। নুর ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, সড়কে হঠাৎ তিনজন যুবককে সাইকেল চালিয়ে যেতে দেখলাম। তারা পরিবেশ নিয়ে মানুষকে সচেতন করছে। এটি ভালো কাজ। তাদের জন্য শুভকামনা রইলো। বাই রোড তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ দূরত্ব প্রায় হাজার কিলোমিটার। তাদের আশা আটদিনের মধ্যেই পৌছে যাবেন বার্তা দিতে দিতে। বায়ু দূষণ বর্তমান সময়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ু দেশের তালিকায় ভারত ও চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। ধুলাবালি মিশ্রিত বাতাসের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যদিকে শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বেড়ে চলছে। তাই পরিবেশ ও বায়ু দূষণের রোধে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন এই তিন শিক্ষার্থী।
তাদের যাত্রা পথে বিভিন্ন সড়ক, হাট বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাইকেল থামিয়ে সাধারণ মানুষকে পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতনতা সহ বিভিন্ন পরামর্শ দিতে দেখা গেছে। তারা জানান, তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বাইসাইকেল চালিয়ে পরিবেশ বায়ু দূষণ রোধে বিভিন্ন পথসভা ও আলোচনার আয়োজন করবেন, করবেন বৃক্ষরোপণ, সংগ্রহ করবেন বিভিন্ন জেলার মাটি। তাদের এই বাই সাইকেল যাত্রা আগামী ৮ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করবেন জানান তারা। তারা আজ রাত রংপুর বিভাগীয় শহরে থাকছেন। সকালে ঢাকার পথ ধরবেন।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, প্রতিনিয়ত আমাদের দেশের পরিবেশ ও বায়ু দূষিত হচ্ছে। আর এই দূষণের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল আমরা সাধারন মানুষকে সচেতন করবো। তাই আমরা তিনজনে মিলে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফের পথে আমাদের এই সচেতনতামূলক বাই সাইকেল যাত্রা শুরু করেছি। আমরা যাত্রা পথে বিভিন্ন মানুষকে পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতন করেছি এবং পরামর্শ দিয়েছি।
শাহীন আলম বলেন, আমরা পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। বিভিন্ন সচেতনতামূলক পর্ব ইতোমধ্যে শেষ করেছি। দেশের মানুষকে পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করতে আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের পথে ঘাটের মানুষকে পরিবেশ বিষয়ে সচেতন করবো। ইতোমধ্যে আমরা এ কাজ শুরু করেছি। সব মানুষ আমাদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ ও সহযোগিতা করছে। আমরা দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই আমরা যেন এই যাত্রা শেষ করতে পারি সফলভাবে।
ফরহাদ মিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত রয়েছি৷ তাই আমাদের ইচ্ছে ছিল সাইকেল চালিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করবো। আজকে আমরা তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফের পথে। আমাদের এই কাজে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ যেভাবে সহযোগিতা করছে এতে আমরা অনেক কৃতজ্ঞ। আমরা এই যাত্রা সফলভাবে শেষ করতে পারলে পরবর্তীতে বাইরের দেশেও এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগ নেওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।
আসিফ