
ছবিঃ সংগৃহীত
যশোরের পুলেরহাটে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-মেয়ে নিহত এবং মা ও আরেক মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩রা এপ্রিল) বিকেলে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পুলেরহাটে এ দুর্ঘটনায় ঘটে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
নিহতরা হলেন, খুলনার খালিশপুর থানার মুজগুন্নি এলাকার মিল্লাত গাজীর ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) ও তার মেয়ে ঐশী (১০)। আহতরা হলেন, রুবেল হোসেনের স্ত্রী জেসমিন (২৮), আরেক মেয়ে তাঈয়েবা (৭) এবং পথচারী যশোর সদর উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামের বাবু’র ছেলে ওসমান (১৯)।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে রুবেল তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে যশোরের শার্শা উপজেলার বহিলাপোতা গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে খুলনার মুজগুন্নীতে ফিরছিলেন। পথে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পুলেরহাট এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো ১৪-০২৫২) তাদের ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো ল-৪১-২৩১৬) থেকে ছিটকে পড়ে রুবেল ও তার মেয়ে ঐশী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন জেসমিন ও ছোট মেয়ে তাঈয়েবা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি পালানোর চেষ্টা করলে পথচারী ওসমানকে (১৯) ধাক্কা দেয়। এতে তিনিও গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার সুজায়েদ আহমেদ জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে আহতদের স্থানীয় লোকজন জরুরী বিভাগে আনেন। এর মধ্যে রুবেল হাসপাতালে আনার পথে মারা যান। বাকি শিশুসহ তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত জানান, পুলেহাটে বাসের চাপায় বাবা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন এবং মা ও আরেক মেয়ে আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইমরান