ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

ট্রাম্পের শুল্কে রপ্তানি খাতে চাপ বাড়বে বাংলাদেশের?

প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ৩ এপ্রিল ২০২৫; আপডেট: ২০:১৯, ৩ এপ্রিল ২০২৫

ট্রাম্পের শুল্কে রপ্তানি খাতে চাপ বাড়বে বাংলাদেশের?

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার নতুন বাস্তবতায় পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক (রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ) আরোপ করেছেন। এর ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন রপ্তানি খাত বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশের ওপর শুল্ক বাড়ল ৩৭ শতাংশ

গত ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন শুল্ক নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক, যা এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বিজিএমইএর সহায়ক কমিটির সদস্য ও এ শাশা গার্মেন্টসের এমডি শামস মাহমুদ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির ফলে বাংলাদেশ এখন তার প্রতিযোগীদের তুলনায় বেশি শুল্ক কাঠামোর সম্মুখীন হচ্ছে, যা আমাদের রপ্তানি সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”

চীনের তুলনায় ব্যয় বাড়বে বাংলাদেশের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা বাংলাদেশি পণ্যের দাম বাড়বে, যা প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিতে পারে। শামস মাহমুদ বলেন, “চীন থেকে বাংলাদেশে শিল্প স্থানান্তরের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির খরচ এখন চীনের তুলনায় বেশি হবে।”

বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বাংলাদেশ

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন বাণিজ্য নীতি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান বলেন, “বাংলাদেশকে তার অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যনীতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে, বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করতে হবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সংস্কারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।”

তুলনামূলক শুল্ক হার

বাংলাদেশের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতিতে চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ওপর ৪৭ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ৩০ শতাংশ, তুরস্কের ওপর ১০ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার ওপর ৪৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্কহার বেশি হওয়ায় ভারতীয় রপ্তানিকারকরা সুবিধা পেতে পারে।

নতুন এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার ও ব্যবসায়ীদের জন্য কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাংলাদেশকে এখনই বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে হবে এবং বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে। নতুবা রপ্তানি আয় কমে যেতে পারে, যা সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আসিফ

আরো পড়ুন  

×