
ছবি: সংগৃহীত।
ফরিদপুরের সালথায় প্রশাসনের অভিযানের পরও কুমার নদে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলছে বালু উত্তোলন। উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রসুলপুর বাজারের পাশে এ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দুই পাড়ে থাকা কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা সড়ক চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সড়ক ভেঙে নদে পড়ে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, রসুলপুর বাজারের পাশে কুমার নদের মাঝখানে একটি ডাবল ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাহমুদ নামে এক চিহ্নিত বালু ব্যবসায়ী বালু উত্তোলন করছেন। তিনি রসুলপুর-সালথা সড়ক ও রসুলপুর-মাদ্রাসা গট্টি সড়ক ছিদ্র করে পাইপ বসিয়েছেন, ফলে সড়ক দুটিতে ফাটল ধরেছে।
অন্যদিকে, বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দুই পাড় ভেঙে যাচ্ছে। পাশের বড়দিয়া বাজার এলাকায়ও কুমার নদে আরও দুটি ড্রেজার মেশিন বসানো দেখা যায়। যদিও ওই দুটি মেশিন বন্ধ ছিল, তবে সেগুলোর মাধ্যমে আগেই বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পাড় ভেঙে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, "কয়েকদিন আগে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মাহমুদের ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু অভিযানের পর আবারও সে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেছে। এতে নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে এবং রসুলপুর বাজার সেতুও ঝুঁকির মুখে পড়েছে, কারণ ড্রেজারটি সেতুর পাশেই বসানো হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "মাহমুদ প্রায় এক যুগ ধরে আমাদের এলাকার ফসলি জমি ও কুমার নদ ধ্বংস করে বালু-মাটির ব্যবসা করে আসছে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।"
ড্রেজার মালিক মাহমুদ বলেন, "কয়েকদিন আগে প্রশাসন আমার ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভেঙে দিয়েছিল, এতে অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাই উপর মহলকে ম্যানেজ করে পুনরায় বালু উত্তোলন শুরু করেছি। অভিযানে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ হলে ড্রেজার উঠিয়ে ফেলব।"
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনিছুর রহমান বালী বলেন, "কয়েকদিন আগে মাহমুদের ড্রেজার মেশিন ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। যদি সে আবারও বালু উত্তোলন করে থাকে, তাহলে দ্রুত অভিযান চালানো হবে।"
সায়মা ইসলাম