ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

পটুয়াখালী জেলা কারাগারে কারারক্ষীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী ॥

প্রকাশিত: ১১:২৪, ৩ এপ্রিল ২০২৫

পটুয়াখালী জেলা কারাগারে কারারক্ষীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী জেলা কারাগারে সাজেদুর রহমান মিলন (৪২) নামে এক কারারক্ষীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার রাতে কারারক্ষীদের ব্যারাক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সদর থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

নিহত সাজেদুর রহমান শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানার সাইফুল ইসলামের ছেলে। তার এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। এ ছাড়া তিনি গত ৩১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলা কারাগার থেকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে বদলি হন এবং চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি পটুয়াখালী জেলা কারাগারে যোগদান করেন।

জেলা কারাগারের কারারক্ষী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টায় কারারক্ষী মিলনের ডিউটি শুরু হয় এবং সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়। ডিউটি শেষ করে তিনি বাসায় না যাওয়ায় তাঁর স্ত্রী ফাহিমা বেগম তাকে খুঁজতে কারাগারে পৌঁছান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর নিচতলার একটি ব্যারাকের দরজা ভেঙে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান কারারক্ষীরা ও তার স্ত্রী। এ সময় তাঁকে নামিয়ে দ্রুত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত কারারক্ষী সাজেদুর রহমানের স্ত্রী ফাহিমা বেগম জানান, তার স্বামী সাজেদুর রহমান বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। সে কারণে তিনি জেলা কারাগারের জেলার লাভলু স্যারের কাছে ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু লাভলু স্যার ছুটি না দিয়ে উল্টো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বান্দরবানে বদলি করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি বলেন, "স্যার যদি আমার স্বামীকে ছুটি দিতেন, তবে আজ এমনটা হতো না।"

এ ঘটনার পর সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঈদের ছুটির জন্য আবেদন করলে তা না মঞ্জুর করায় এবং উপরন্তু গালিগালাজের শিকার হওয়ায় মানসিক চাপে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, "সাজেদুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি শুনেছি। বর্তমানে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, কারা কর্তৃপক্ষ সদর থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

আফরোজা

×