ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

চাঁপাইনবাবগঞ্জে লাইসেন্সবিহীন সার বিক্রির ছড়াছড়ি

জাহিদ হাসান মাহমুদ মিমপা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

প্রকাশিত: ১০:৪১, ৩ এপ্রিল ২০২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জে লাইসেন্সবিহীন সার বিক্রির ছড়াছড়ি

ছবি সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকায় অনুমোদনহীন সার ও কীটনাশকের অবাধ বিক্রির কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। লাইসেন্সবিহীন মুদি দোকানগুলোতে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে নিম্নমানের সার ও কীটনাশক। যা প্রয়োগ করেও আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না কৃষকরা। এতে শস্যের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। ফলে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের।

সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, তিনি এক সপ্তাহ আগেই তার ধানের জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেছিলেন, কিন্তু কোনো ফল না পেয়ে আবারও তা ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছেন। তার অভিযোগ, স্থানীয় মুদি দোকানগুলোতে বিক্রি হওয়া ভেজাল সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণেই এই দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা মেলে না, ফলে সমস্যার সমাধান পেতে তারা নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন অননুমোদিত বিক্রেতাদের ওপর। এই দোকানগুলোতে সহজলভ্য হওয়ায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে এখান থেকেই সার ও কীটনাশক সংগ্রহ করছেন, যার মান সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই।

মেহেদী হাসান নামে এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "চা-সিগারেটের মতো মুদি দোকান থেকে সার-কীটনাশক কিনতে হচ্ছে আমাদের। কিন্তু দোকানদাররা নিজেরাও জানে না কীভাবে এগুলো ব্যবহার করতে হবে। ফলে শস্য উৎপাদনের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হচ্ছে।"

নারায়ণপুর ইউনিয়নে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই সার-কীটনাশক বিক্রেতা বলেন, এটা ঠিক যে আমরা মুদি দোকান ও অনুমোদন প্রতিষ্ঠানে সার-কীটনাশক বিক্রি করি। কিছুদিন আগেই কৃষি বিভাগ থেকে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। অফিসে দেখা করে আবেদন করে এসেছি। কবে পাব কি না জানি না, তবে আবারো সার-কীটনাশক বিক্রি শুরু করেছি। এই এলাকায় চাহিদা বেশি ও প্রশাসনের তদারকি কম থাকায় মুদি দোকানেও সার-কীটনাশক বিক্রি করা হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক পরিচালক ড. পলাশ সরকার বলেন, আলাদাভাবে সার ও কীটনাশকের জন্য অনুমোদন ও লাইসেন্স না থাকলে তা বিক্রির কোন সুযোগ নেই। কারণ এতে কৃষকরা প্রতারণার শিকার হয় এবং সার-কীটনাশক প্রয়োগ করেও ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না। মুদি দোকানে সার-কীটনাশক বিক্রির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। মুদি দোকানসহ লাইসেন্সবিহীন এসব প্রতিষ্ঠানে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবুও বন্ধ না হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছমিনা খাতুন বলেন, অনুমোদন ও লাইসেন্স বিহীন সার-কীটনাশক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্টে দণ্ড দেয়া হচ্ছে। আগামীতেও এমন অভিযান ও মোবাইল কোর্ট চলমান থাকবে। লাইসেন্স ছাড়া সার-কীটনাশক বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় বিসিআইসি ১৫ জন, বিএডিসি ৮ জন ও খুচরা সার বিক্রেতা রয়েছেন ১২৪ জন। জেলায় চলতি মৌসুমে ৪৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে।

আশিক

×