
সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর ধু-ধু বালিয়াড়িতে চৈতালী নানা ফসলের পাশাপাশি সুর্যমুখী ফুলের ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে। প্রতিবছরই আবাদের পরিমাণ বাড়ছে, বিশেষ করে চৌহালী উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু হয়েছে। অন্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরাও সূর্যমুখী ফুলের চাষে ব্যাপক হারে ঝুঁকে পড়েছেন।
গত কয়েক বছর পরীক্ষামূলক চাষের পর ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর কৃষকরা ব্যাপকহারে চাষ শুরু করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে যমুনার বুক জুড়ে ২১ হেক্টর জমিতে সুর্যমুখী ফুলের ফোটা হলুদ রঙ প্রকৃতিতেও সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। সে সৌন্দর্য উপভোগে প্রকৃতি প্রেমী মানুষজনও ছুটছে নৌকা নিয়ে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা, কাজিপুর উপজেলার নাটুয়াপাড়া, চরগিরিশ, তেকানিসহ বিভিন্ন চরে দেখা গেছে এমন সৌন্দর্য। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শে নাটুয়াপাড়াগ্রামের কৃষক হামিদুল ইসলাম এ বছর তার ৬ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। ভালো লাভের আশায় সচ্ছলতার স্বপ্ন বুনছেন তিনি।
এছাড়া একই এলাকার শহিদুল ইসলাম ২ বিঘা, মেছড়ারচরের রব্বানী ৩ বিঘা, শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের কুরসী গ্রামের ইয়াসিন মোল্লা ১ বিঘা ও ধীতপুর ঘোনাপাড়া গ্রামের হাফিজ উদ্দিন দেড় বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ করেছেন বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রণোদনা কর্মসূচির সহায়তায় চরাঞ্চলের বালিয়াড়ি জমি এখন আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।
সূর্যমুখী ফুল পুষ্ট হলে ১১০ দিন পর ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ করা যায়। চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ফুলচাষে ৬/৭ হাজার টাকা খরচ হয়। সামান্য সার ও কয়েকবার পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া তেমন কোনো পরিশ্রম ও খরচ নেই। তারা জানান, গত বছর বিঘা প্রতি জমিতে ৬ থেকে সাড়ে ৬ মণ করে বীজ উৎপাদন হয়েছিল। যা ৫ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন। এছাড়া ফুলগাছ জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করেও বাড়তি আয় হয়েছে। এবারও তারা ভালো ফলন ও লাভের আশা করছেন।
এদিকে চরে সূর্যমুখীর এমন সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। নৌকাযোগে নদী পার হয়ে বালিয়াড়ি পথ হেঁটে তারা সেখানে যাচ্ছেন সৌন্দর্য উপভোগ করতে। হলুদের রাজ্যে নিজেদের ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।
সিরাজগঞ্জে জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আ. জা. মু. আহসান শহীদ সরকার বলেন, এবার জেলায় সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, উল্লাপাড়া, বেলকুচি, কামারখন্দ, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে মোট ২১ হেক্টর জমিতে। সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে চৌহালী উপজেলায়। সরকারি সহায়তা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে সূর্যমুখী চাষ যমুনার ভাঙনকবলিত চরাঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য বদলে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
আফরোজা