
ছবিঃ সংগৃহীত
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের জোড়গাছা ব্রিজের নিচে বাঙালি নদীর একাংশ এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। নদীর স্বচ্ছ জলধারা, বালুময় তীর আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে এটি রূপ নিয়েছে এক টুকরো ‘নতুন জাফলং’ এ। প্রতিদিনই এখানে ভ্রমণ পিপাসুদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে, যা শেরপুরের পর্যটনের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে।
এই ঈদে নতুন এ জাফলংয়ে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। নৌকা ভ্রমণ, নদীর স্বচ্ছ জলে গোসল, বালুময় তীরে পিকনিক সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এখানে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও খুশি, কারণ পর্যটকদের আনাগোনায় তাদের ব্যবসাও জমে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হাকিম বলেন, ‘আমি এত মানুষের ভিড় আগে কখনো দেখিনি। ঈদের ছুটিতে এখানে যেন এক আনন্দের জোয়ার বইছে।’
পর্যটকদের জন্য কিছু অস্থায়ী দোকান বসেছে, যেখানে স্থানীয় খাবার ও পানীয় বিক্রি হচ্ছে। শিশুদের জন্যও কিছু বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বুধবার (২রা এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বাঙালি নদীর কিছু অংশ সংস্কারের ফলে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। নদীর তলদেশে বালুর স্তর ও ছোট ছোট কুচি পাথর জমে গিয়েছে, যা দেখতে অনেকটা সিলেটের জাফলংয়ের মতো। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশেপাশের জেলা থেকেও পর্যটকরা এখানে ছুটে আসছেন। কেউ নৌকা ভ্রমণ করছেন, কেউবা নদীর পাড়ে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। এলাকাবাসী নদীর এমন অপরূপ রূপ দেখে অভিভূত।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আজিমুল্লাহ শাহ্ বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকে এই নদী দেখে আসছি, কিন্তু গত ২০ বছরে এমন স্বচ্ছ ও সুন্দর রূপ কখনো দেখিনি। এখন জায়গাটি পিকনিক ও ভ্রমণের জন্য দারুণ হয়ে উঠেছে।’
সুঘাট ইউনিয়নের ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুন নবী হিটলার বলেন, ‘জায়গাটি যদি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, তাহলে এটি একটি অস্থায়ী পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। পর্যটন সুবিধা বাড়ানো গেলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।’
বর্তমানে প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে বেড়াতে আসছেন। কেউ নদীর স্বচ্ছ জলে নৌকা ভ্রমণ করছেন, কেউবা বালুময় তীরে বসে প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করছেন। ঈদের ছুটিতে ভিড় আরও বেড়েছে, যা প্রমাণ করে জায়গাটি কতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে, এটি শেরপুরের পর্যটন মানচিত্রে এক উজ্জ্বল সংযোজন হবে।
স্থানীয় অধিবাসী সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সাধারন সম্পদাক এসএম আবু সাঈদ বলেন, ‘বগুড়ার শেরপুরের বুকে গড়ে ওঠা নতুন জাফলং সত্যিই এক বিস্ময়! প্রকৃতি যদি এভাবেই তার রূপ ধরে রাখে, তাহলে এটি ভবিষ্যতে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।’
বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটকরা বলছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে এই স্থান, যা শুধু স্থানীয় পর্যটকদের নয়, দেশের নানা প্রান্তের ভ্রমণপ্রেমীদেরও আকর্ষণ করছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি হয়ে উঠতে পারে বগুড়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র।
ইমরান