
কলাপাড়া : কুয়াকাটা সৈকত দখল করে গড়ে তোলা সরদার মার্কেট
কুয়াকাটা সৈকতের ওয়াটার লেভেল ঘেঁষা ওয়াকিং জোন দখল করে তোলা স্থাপনা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সরদার মার্কেট নামে পরিচিত স্থাপনাটি ইতোপূর্বে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তারমধ্যে নতুন করে কাঠ আর টিনের স্ট্রাকচারের উপরে ইট-সিমেন্টের ঢালাই দেওয়ার কাজ চলছে। করা হচ্ছে দোতলা। যেখানে পর্যটকদের থাকা অনিরাপদ মনে করছেন সবাই। কিন্তু ফ্রি স্টাইলে দীর্ঘদিন আগে সৈকত দখল করে এই স্থাপনা তোলায় পর্যটকসহ স্থানীয়রা হতবাক বনে গেছেন। এই মার্কেটের নিচে প্রায় ৪০টি ছোট ছোট দোকানপাট রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পর্যটকের আনাগোনা থাকছে। এরই মধ্যে স্থাপনা সম্প্রসারণের শতকরা ৯০ ভাগ কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। সৈকত দখল রোধে এবং ঝুঁকি এড়াতে এমন পরিবেশ বিনাশী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি সচেতন মহলের।
কুয়াকাটা সৈকতের শূন্য পয়েন্টের পশ্চিমদিকে অন্তত ২০০ ফুট লম্বা এই মার্কেটটির স্থাপনায় সাগরের জোয়ারের পানিতে ঝাপটা দেয়। এটি আরও সম্প্রসারিত করে সাগরের ওয়াটার লেভেল বরাবর সৈকতের বালু ব্যবহার করে নির্মাণ হচ্ছে মার্কেটটি। লোহার স্ট্রাকচারের উপরে টিন দিয়ে মূল ভিত্তি এই স্থাপনার। এর উপরে আবার জোড়াতালি দিয়ে দোতলার কাজ চলছে। করা হচ্ছে দোতলায় আবাসিক হোটেল। শুধু পর্যটক নয়। ওই মার্কেটের দোকানিরাও ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দোকানি জানান, বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের ঢেউ এসে প্রবলবেগে ঝাপটা দেয় এই মার্কেটের স্থাপনায়। তারপরও ভয়ে ভয়ে দোকান করেছেন। এখন এটিকে দোতলা করা হচ্ছে। যে কোনো সময় ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। প্রবল অস্বাভাবিক জোয়ারে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।
ওয়াটার লেভেল ঘেঁষা এই সৈকতকে নিজের জমি দাবি করা হিরু মিয়া জানান, আমার জমির অনেকটা সাগরের মধ্যে রয়েছে। এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। আবারো হবে বলে মন্তব্য তার। আর এই স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলেও দাবি তার। প্রকৌশলীর পরামর্শ নিয়েই স্থাপনার কাজ করছেন।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানান, সমুদ্র সৈকতের মালিক সরকার। এখানে ব্যক্তি মালিকানার কোনো সুযোগ নেই। পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, কুয়াকাটা সৈকতে কোনো স্থাপনা তোলার সুযোগ নেই। ওই স্পটের জমির মালিকানা নিয়ে আদালতের একটি নির্দেশনা রয়েছে। তবে নতুন করে সম্প্রসারণ করলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সৈকতে স্থাপনা তোলা বন্ধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে তিনি জানান।